রাজ্যের বিধানসভা ভোট কি নির্ধারিত সময়ের আগেই? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই প্রশ্নই ফের ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজ্য সফরে এসে শাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ১৫ এপ্রিলের পর পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার শপথ নেবে। আর এই এক লাইনের মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোরালো জল্পনা—ভোট কি এগিয়ে আসছে, আর এ ক্ষেত্রে কত দফায় হতে পারে নির্বাচন?
রাজনৈতিক মহলের হিসেব বলছে, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে যদি ভোটের ফল প্রকাশ করতে হয়, তবে সাত বা আট দফায় নির্বাচন কার্যত অসম্ভব। সেই কারণেই এখন সবচেয়ে জোরালো সম্ভাবনা হিসেবে উঠে আসছে মাত্র তিন দফায় বিধানসভা ভোট। একাধিক সূত্রের দাবি, কম দফায় ভোট করলেই সময়ের মধ্যে গণনা, ফলপ্রকাশ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এই জল্পনার মধ্যেই সামনে এসেছে প্রশাসনিক প্রস্তুতির ছবিটাও। সূত্রের খবর, ভোটপ্রক্রিয়া সামাল দিতে প্রায় ৩৫ হাজার রাজ্য পুলিশ কর্মী নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিতে পারে রাজ্য। সুতরাং প্রকারান্তরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনের জন্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত সেটা বলাই বাহুল্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার জানিয়েছেন ২০২১ সালের নির্বাচনের থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটি হলেও আসন বেশি পাবে তৃনমূল।
পাশাপাশি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্য। আজ তিনি বলেন,“প্রয়োজন হলে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথের ভেতরেও মোতায়েন থাকবে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের মতে, ভোটের আগেই আতঙ্ক তৈরি করাই বিজেপির লক্ষ্য। বিজেপি শিবির আবার বলছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থেই কড়া নিরাপত্তা প্রয়োজন।
তবে মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এত দ্রুত ফলপ্রকাশ করতে হলে নির্বাচন কবে ঘোষণা হবে? সূত্রের খবর অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন আগামী ২৬ বা ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। সেই সময়সূচি ধরেই মার্চের মধ্যেই ভোটগ্রহণ শেষ করে এপ্রিলে ফলপ্রকাশের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
সব মিলিয়ে, অমিত শাহের মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে এখন শুধুই এক প্রশ্ন—ঘণ্টা কি আগেই বেজে গেল?



