২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে পারে কি না—এই প্রশ্নই এখন প্রশাসনিক মহল থেকে কর্মী সংগঠন, সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রে। নতুন বছরের শুরুতেই সপ্তম বেতন কমিশন (WB 7th Pay Commission) নিয়ে আশার ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন সূত্রে। সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা না হলেও, নির্বাচনের মুখে কর্মীদের জন্য বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংগঠন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
২০২৬ সালে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার কর্মীদের মন জয়ের কৌশল নিতে পারে বলে ধারণা। কর্মী সংগঠনগুলোর বক্তব্য, ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট বাজেটেই ডিএ বৃদ্ধি বা বেতন কাঠামো নিয়ে কোনও ইঙ্গিত মিলতে পারে। ‘Confederation of State Government Employees’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের মতে, মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা হলে তা নির্বাচনী আবহে বড় বার্তা দেবে। কর্মী মহলের অনুমান, মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার ঘোষণা করতে পারেন। অতীতেও ভোটের আগে বাজেটে কর্মীদের জন্য স্বস্তির সিদ্ধান্ত দেখা গেছে—২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে ডিএ বৃদ্ধি তার উদাহরণ।
কেন্দ্র-রাজ্যের বেতনে বিস্তর ফারাক
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন এবং অষ্টম বেতন কমিশনের দিকেই এগোচ্ছেন। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীরা এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে মাত্র ১৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন। এই বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ বাড়িয়েছে। কর্মীদের আশা, ভোটের আগে অন্তত এই ফারাক কিছুটা হলেও কমবে।
রাজ্যপালকে চিঠি, পাঁচ দফা দাবি
দাবি আদায়ে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ সম্প্রতি রাজ্যপাল C. V. Ananda Bose-কে চিঠি দিয়েছে। সেখানে পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে—
-
অবিলম্বে সপ্তম বেতন কমিশন চালু ও কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামো সংশোধন
-
সর্বভারতীয় মূল্যসূচক (AICPI) অনুযায়ী বকেয়া ডিএ মেটানো
-
প্রায় ছয় লক্ষ শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু
-
চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী ও পার্ট-টাইম কর্মীদের নিয়মিতকরণ
-
সমস্ত বকেয়া পাওনা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
চিঠির পাশাপাশি আন্দোলনের পথেও হাঁটার বার্তা দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দাবি না মানলে নবান্ন অভিযান-সহ বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের একাংশের বিশ্বাস, রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনী চাপ—এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—২০২৬-এর ভোটের আগে রাজ্য সরকার কি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেটাতে বড় ঘোষণা করবে? নজর এখন নবান্নের দিকেই।



