প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে একাধিক তথ্য উঠে এলেও সেই রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দিতে পারল না সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় রিপোর্ট এনেও মঙ্গলবার তা আদালতে জমা করতে পারল না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই কারনে তদন্তের রিপোর্ট জমা করতে পারেনি ইডিও। সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি রয়েছে। বিচারপতি সিনহা জানিয়েছেন আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের পরে এই মামলার শুনবে কলকাতা হাইকোর্ট।
এদিকে আগামীকাল থেকে চাকরিতে পুনর্বহাল হতে চলেছেন রাজ্যের একাধিক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে ৯৪ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। সেই ৯৪ জন আগামীকাল, ১ আগস্ট ২০২৪ থেকে ফের ফিরতে চলেছেন নিজ নিজ স্কুলে। এই শিক্ষকদের সবাই চাকরি পেয়েছিলেন ২০১৪ সালে।
ঘটনা চক্র একনজরেঃ অভিযোগ উঠেছিল ২০১৪ সালে যারা পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন। তাদের নিয়োগ ছিল অবৈধ। যোগ্যদের বঞ্চিত করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অযোগ্যদের। হাইকোর্টে নির্দেশে তদন্তে নামে সিবিআই। ২০২২ সাল থেকে তদন্ত শুরু করা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে, ২০১৪ সালে প্রাথমিকে বেআইনিভাবে চাকরি প্রাপক ৯৪ জনের নাম সামনে আসে। আদালতে রিপোর্ট পেশ করে এই প্রাপক ৯৪ জনের নাম সামনে আনে সিবিআই। এরপর ওই ৯৪ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
আদালতের নির্দেশের পর ওই ৯৪ জনের নিয়োগে অনিয়মের কথা স্বীকার করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে পর্ষদ। চাকরিহারাদের কয়েকজন সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। চাকরিহারা ৯৪ জন প্রাথমিক শিক্ষককে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অভয় এস ওক এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহর বেঞ্চ। গত ১৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়ে জানায়, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের চাকরির বহাল থাকবে। রায় ঘোষণার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্টের পর থেকে তাদের চাকরিতে ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।



