রেকর্ড ভোটে কার হাসি? প্রত্যাবর্তনে প্রত্যয়ী মমতা-অভিষেক

প্রথম দফার রেকর্ড ভোটের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূলের জয়ের দাবি, পরিযায়ী ভোটারদের ভূমিকা ও এসআইআর ইস্যু ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রেকর্ড পরিমাণ ভোট, তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, আর বুথমুখী মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া—প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই রাজ্যের রাজনীতিতে শুরু হয়ে গিয়েছে ফলাফলের অঙ্ক কষা। ভোটের এই উচ্চহার কি পরিবর্তনের ইঙ্গিত, না কি শাসকদলের পক্ষে জনসমর্থনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা? ফল জানতে অপেক্ষা ৪ মে, কিন্তু তার আগেই রাজনৈতিক ময়দানে শুরু হয়ে গিয়েছে দাবি আর পাল্টা দাবির লড়াই।

প্রথম দফার ভোটের পর থেকেই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর শাসক দল তৃণমূল। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমরা আজ থেকেই জিতে বসে আছি। পরের দফায় আরও জোরে লড়ব।” তাঁর কথায়, ভোটের ফল নির্ধারণ করবে মানুষই—না পুলিশ, না কেন্দ্রীয় বাহিনী। একই সুর শোনা গিয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-র গলায়ও। তিনি দাবি করেছেন, প্রথম দফাতেই বিরোধী বিজেপি-কে কার্যত ছিটকে দেওয়া হয়েছে।

দলীয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী কুনাল ঘোষ। তাঁর মতে, প্রথম দফার ভোটেই ১৩০-এর বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। যদিও এই দাবির বাস্তবতা যাচাই হবে ফল প্রকাশের দিনই, তবুও রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—শাসক দল নিজেদের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট নিশ্চিত।

অন্যদিকে, ভোটের হার বৃদ্ধির পেছনে কী কারণ, তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। বিভিন্ন জেলার তথ্য বলছে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার প্রভাব থাকলেও বড় ভূমিকা নিয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক নিজের উদ্যোগে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন। সাধারণত এই ধরনের ভোটে তাঁদের অংশগ্রহণ কম থাকে, কিন্তু এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিযায়ী ভোটারদের একটি বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, যাঁরা ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। শাসক দলের দাবি, এই বিপুল ভোট আসলে প্রশাসনিক ‘হেনস্তা’ ও বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ। তবে বিরোধীরা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ।

সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোট যেন শুধু ভোট নয়—এ এক রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের লড়াই, যেখানে প্রত্যেক পক্ষই নিজেদের জয় নিশ্চিত ধরে এগোচ্ছে। কিন্তু আসল ছবি সামনে আসবে ৪ মে-ই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন