বড়দিনের আগে নয় শুনানি, কবে যাবে ভোটারদের নোটিস? স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুনানি কবে শুরু হবে তা নিয়ে জল্পনা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানালেন, বড়দিনের পরেই শুরু হতে পারে প্রক্রিয়া।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে কৌতূহল—কবে শুরু হবে শুনানি (হিয়ারিং)? সেই প্রশ্নেই এবার কিছুটা স্পষ্টতা দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দপ্তর। নবান্ন সূত্রে খবর, বড়দিনের আগে শুনানি শুরুর কোনও সম্ভাবনা নেই।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ২৬ বা ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুনানি শুরু হতে পারে। অর্থাৎ, উৎসবের আগে নয়, বড়দিনের পরেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও ভোটারকে শুনানিতে ডাকতে হলে তাঁকে আগে লিখিত নোটিস দিতে হবে। সেই নোটিস সংশ্লিষ্ট বুথের বুথ লেভেল অফিসার (BLO) ভোটারের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেবেন। অর্থাৎ, ডাক বা অনলাইনে নয়—নোটিসের হার্ড কপি সরাসরি ভোটারের হাতে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন উঠছে, সেই নোটিস কবে থেকে পৌঁছতে শুরু করবে? শুক্রবার এই প্রসঙ্গে মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ভোটারদের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।

CEO দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশন চাইছে যাচাই-বাছাই শেষ করেই নোটিস পাঠাতে। কারণ এখনও ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ তালিকায় থাকা প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তথ্য খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। সেই কারণেই একসঙ্গে নোটিস পাঠানো হচ্ছে না, ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

তবে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দিন দুয়েকের মধ্যেই বাড়ি বাড়ি নোটিস পৌঁছনোর কাজ শুরু হতে পারে। যদিও বড়দিনের আগে শুনানিতে ডাক পড়বে না বলেই জানানো হয়েছে।

শুনানি পর্বের প্রস্তুতিতে নজরদারি আরও জোরদার করতে চাইছে কমিশন। রাজ্যের CEO দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায় ৪,০০০ মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যাতেই এই নিয়োগ নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

কমিশন সূত্রে খবর, শনিবারের মধ্যেই মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরাই মূলত শুনানি পর্বের তদারকির দায়িত্বে থাকবেন।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এখন প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে। বড়দিনের পর থেকেই শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ শুরু হলে, রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন