শুনানি পর্বে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দিয়ে করা নজরদারি, ৯ দফা দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন

ভোটার শুনানিতে অনিয়ম রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দিয়ে কড়া নজরদারি। ৯ দফা দায়িত্ব বুঝিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানি পর্বে কোনও ধরনের বিচ্যুতি বা অনিয়ম ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের শুনানির সময় কীভাবে নজরদারি চালাতে হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়ে গঠিত মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হল। এই শুনানি পর্বের সার্বিক তদারকির জন্যই তাঁদের নিয়োগ করেছে কমিশন।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৯ দফা নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের উপর। বুধবার তাঁদের ডেকে বিস্তারিত ভাবে সেই দায়িত্ব ও করণীয় বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নজরুল মঞ্চে দু’দফার প্রশিক্ষণ শিবির

বুধবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে দু’দফায় মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম দফার প্রশিক্ষণ শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে। দ্বিতীয় দফা চলে দুপুর ২টো থেকে।

এই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং সিইও দফতরের অন্যান্য আধিকারিকেরা।

২৯৪ বিধানসভা কেন্দ্রে ১১টি করে শুনানির টেবিল

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১১টি করে শুনানির টেবিল থাকবে। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি টেবিলের জন্য একজন করে মাইক্রো অবজ়ার্ভার দায়িত্বে থাকবেন। অর্থাৎ শুনানি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই সরাসরি নজরদারি থাকবে।

প্রশিক্ষণে চার হাজারেরও বেশি মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে এনুমারেশন ফর্ম যাচাই, ভোটারদের জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা এবং শুনানির সময় অনুসরণযোগ্য নিয়মাবলি বিস্তারিত ভাবে বোঝানো হয়।

মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা কী?

ভোটারদের শুনানির মূল দায়িত্বে থাকবেন ইআরও এবং এইআরও-রা। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের কাজ হল এই গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখা—শুনানি সঠিক নিয়মে হচ্ছে কি না, কোথাও কোনও বিচ্যুতি রয়ে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের উপর কমিশনের ৯ দফা দায়িত্ব

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের দায়িত্বগুলি হল—

  1. বিএলও-দের জমা দেওয়া ডিজিটাইজ়ড এনুমারেশন ফর্মের তথ্য যাচাই করা।

  2. জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত নথির সঙ্গে ভোটার তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখা।

  3. ইআরও বা এইআরও-রা যাঁদের নোটিস পাঠিয়েছেন, তাঁদের জমা দেওয়া নথি পরীক্ষা করা।

  4. ভোটারদের দাবি এবং জমা দেওয়া নথির মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা।

  5. গোটা শুনানি পর্বের উপর সার্বিক নজরদারি চালানো।

  6. ভোটার তালিকা তৈরির বা সংশোধনের সময়ে কোনও অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা দেখা।

  7. পর্যবেক্ষক ও বিশেষ পর্যবেক্ষকদের পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণে প্রয়োজন মতো সহায়তা করা।

  8. সিইও, পর্যবেক্ষক বা বিশেষ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ এলে তা পালন করা।

  9. নজরদারির পরে উঠে আসা সমস্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।

শনিবার থেকেই শুরু ভোটারদের শুনানি

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী শনিবার থেকেই রাজ্যে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হবে। কোনও ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে এই শুনানি পর্বের উপর।

শুনানি শুরুর আগেই কমিশন নিযুক্ত ৪,৬০০ জন মাইক্রো অবজ়ার্ভারকে তাঁদের দায়দায়িত্ব স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছে সিইও দফতর


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর