কলকাতা: রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজের নতুন ভিবি জি রাম জি (VB-G RAM-G) প্রকল্প চালু হলেও বাস্তবায়নের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের অন্দরে। বহু গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ এগোচ্ছে না বলে অভিযোগের মাঝেই এবার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক (Ministry of Rural Development) রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে (Biswa Bangla Convention Centre) চার দিনের কর্মশালায় রাজ্য, জেলা, ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষজ্ঞ আধিকারিকরা সরাসরি জি রাম জি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক পদ্ধতি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। পরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আধিকারিকরাই নিজ নিজ জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরে অন্য কর্মীদের একই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন।
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানিয়েছেন, শুধু ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পই নয়, গ্রামীণ উন্নয়নের একাধিক কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়েও এই কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। উদ্দেশ্য, মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
প্রশাসনের একাংশের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) টিকিটে নির্বাচিত বহু গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্য দায়িত্ব ছেড়েছেন অথবা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন না। তার জেরে নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।
গত ১ জুলাই থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিবি জি রাম জি প্রকল্প চালু হয়েছে। তবে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্যের মোট ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০০টিতে কার্যকরভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। বাকি পঞ্চায়েতগুলিতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারণে কাজের গতি মন্থর বলে জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কত দ্রুত এগোবে, তা নিয়েও প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিজ্ঞ আমলাদের একাংশের মত, নতুন পঞ্চায়েত নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব বৃদ্ধি করলে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা সম্ভব হতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan)। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেও জি রাম জি প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। তার পরেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (MGNREGA)-এর পরিবর্তে চালু হয়েছে ভিবি জি রাম জি। নতুন প্রকল্পে বছরে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পে ৮,৫০৮ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকার ৫,৬৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
নতুন ব্যবস্থায় শ্রমিকদের মজুরি সরাসরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (Direct Benefit Transfer-DBT)-এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে, সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি প্রদান বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ না পেলে শ্রমিকরা আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকারও পাবেন। এখন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণের পর প্রকল্পের বাস্তবায়নে কতটা গতি আসে, সেদিকেই নজর প্রশাসনের।