ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে উদ্বেগ শুধু বিরোধী শিবিরে সীমাবদ্ধ নেই। এ বার সেই উদ্বেগের সুর শোনা গেল উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গলাতেও। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, SIR প্রক্রিয়ার পরে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪ কোটি নাম বাদ যেতে পারে, যার বড় অংশই বিজেপির সমর্থক ভোটার হতে পারেন।
সূত্রের খবর, বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগী আদিত্যনাথ দলীয় কর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভোটার যাচাইয়ে সাহায্য করুন। যাঁদের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁদের খুঁজে বের করা জরুরি। চার কোটি ভোটার নিখোঁজ—এটা সত্যিই উদ্বেগজনক, বিশেষ করে যখন তাঁদের অধিকাংশই আমাদের সমর্থক।”
এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করেছে। কারণ, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে SIR নিয়ে যেখানে মূলত বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, সেখানে উত্তরপ্রদেশে শাসক দল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বই আশঙ্কা প্রকাশ করছে। দলের অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে বলে সূত্রের দাবি।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের মন্ত্রী দয়াশঙ্কর সিং ব্যাখ্যা দেন। তাঁর মতে, অনেক ভোটারের গ্রাম ও শহর—দুই জায়গাতেই নাম ছিল। সংশোধনের সময়ে সেই দ্বৈত নাম বাদ পড়ায় সংখ্যাটা বড় দেখাচ্ছে। এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজার প্রয়োজন নেই বলেই তাঁর বক্তব্য।
এ দিকে যোগীর উদ্বেগ প্রকাশের সুযোগ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, “পিডিএ (পিছড়া, দলিত, আদিবাসী) ভোটাররা এতটাই সজাগ যে বিজেপি আর ইচ্ছেমতো কারচুপি করতে পারছে না।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পিছনেও বিজেপির চাপ রয়েছে, যদিও বিরোধীদের নজরদারিতে কোনও অনিয়ম হবে না বলেই তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে শেষ মুহূর্তে SIR-এর সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য দিন ৩১ ডিসেম্বর। তার আগেই সংগঠনকে সক্রিয় করতে চাইছেন যোগী আদিত্যনাথ। দলের কর্মীদের মাঠে নামিয়ে সম্ভাব্য বাদ পড়া ভোটারদের খুঁজে বের করাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।



