বিশ্বকাপের মাঠে বল গড়ানোর আগেই শুরু হয়ে গেল মানসিক লড়াই। বিতর্কিত বোলিং অ্যাকশন নিয়েই আলোচনার কেন্দ্রে পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক, আর সেই বিতর্ককে হাতিয়ার করেই ভারতের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তিনি। আমেরিকার বিরুদ্ধে তিন উইকেট নেওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী তারিক স্পষ্ট জানালেন—ভারত তাঁকে ভয় পাচ্ছে বলেই তাঁর বোলিং নিয়ে এত আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে নেমেই নজর কাড়েন তারিক। আমেরিকার বিরুদ্ধে তিন উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে সরব হন এই স্পিনার।
তারিক বলেন, “আমার মতে, ওদের উপর চাপ আছে। ওরা ভয় পাচ্ছে বলেই আমাকে নিয়ে এত কথা বলছে। ওরা শুধু আমার বোলিং অ্যাকশন নিয়েই আলোচনা করছে। এতে নিজেদের উপরেই চাপ তৈরি করছে। আমি নিজের খেলা ছাড়া আর কিছু ভাবছি না।”
ভারতীয় ক্রিকেটমহলে তাঁর অ্যাকশন নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। প্রাক্তন ক্রিকেটার শ্রীবৎস গোস্বামী প্রশ্ন তুলেছিলেন, বল করার সময় তাঁর থেমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ফুটবলে পেনাল্টি নেওয়ার সময় থামার নিয়ম নেই, তাহলে ক্রিকেটে সেটা কতটা গ্রহণযোগ্য?
তবে বোলারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁর মতে, ব্যাটাররা যখন রিভার্স সুইপ বা সুইচ হিটের মতো শট মারার আগে কাউকে কিছু জানায় না, তখন বোলারদেরও কিছু পরিবর্তনের স্বাধীনতা থাকা উচিত। নিয়মের ভার একতরফাভাবে বোলারের উপর চাপানো ঠিক নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
আকাশ চোপড়াও অশ্বিনের বক্তব্যের সঙ্গে আংশিক একমত হলেও অন্য প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, তারিক প্রায় দাঁড়িয়ে থেকেই বল করেন, রান-আপের সুবিধা নেই। তা হলে কনুই না ভেঙে কি এত গতি বাড়ানো সম্ভব?
এই বিতর্কে নিজের বক্তব্যও স্পষ্ট করেছেন তারিক। তিনি বলেন, “আমার হাতে দু’টি কনুই আছে, তাই হাত বাঁকা মনে হয়। এটা জন্মগত। আমি পরীক্ষা করিয়েছি, আমাকে খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তারপরও সবাই মনে করে আমি বল ছুঁড়ছি।”
এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পাকিস্তান সুপার লিগেও তাঁর অ্যাকশন নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। দু’বারই জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে পরীক্ষা করানোর পর তাঁকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়।
তবে বিতর্কের বাইরে থেকে এখন শুধুই রবিবারের ভারত ম্যাচের দিকে নজর রাখছেন তারিক। তাঁর কথায়, “অতীতে কী হয়েছে, তা নিয়ে ভাবছি না। এটা নতুন ম্যাচ, নতুন জায়গা। আমরা একটাই লক্ষ্য নিয়ে নামব—ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগোনো।”



