উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে বড় ধাক্কা, সুপার নিউমেরারি পদ তৈরির সিদ্ধান্ত খারিজ করল হাই কোর্ট

স্বস্তির ২৪ ঘণ্টা পরই রাজ্যের বিপত্তি, রেগুলার নিয়োগে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টিকে বেআইনি বলল বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে একের পর এক রায় ঝড় তুলছে। বুধবার প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ থেকে আংশিক স্বস্তি পেয়েছিল রাজ্য, কিন্তু সেই স্বস্তির রেশ কাটতে না কাটতেই উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা খেল সরকার। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর একক বেঞ্চ রাজ্যের তৈরি করা সুপার নিউমেরারি বা অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—রেগুলার নিয়োগের মতো সুপার নিউমেরারি পদ তৈরি করা যায় না।

বিচারপতি বসুর পর্যবেক্ষণ, সুপার নিউমেরারি পদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যই আলাদা। এটি কোনও সাধারণ বা রুটিন নিয়োগের অংশ নয়। একমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, যখন কোনও বিশেষ সংকট বা প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা দেখা দেয়, তখনই এই ধরনের পদ তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু উচ্চ প্রাথমিকের রেগুলার নিয়োগে সুপার নিউমেরারি পদ তৈরি করার এই প্রচেষ্টা “নিয়োগ আইনের পরিপন্থী”—মত আদালতের।

Shamim Ahamed Ads

উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে বড় ধাক্কা, সুপার নিউমেরারি পদ তৈরির সিদ্ধান্ত খারিজ করল হাই কোর্ট

রাজ্য সরকার সম্প্রতি জানায়, উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে কিছু প্রযুক্তিগত ও আইনি জটিলতা নিরসনে সুপার নিউমেরারি পদ তৈরি করে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দিতে চায়। মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যেই নেওয়া। আদালতে তাঁদের দাবি ছিল—সুপার নিউমেরারি পদ তৈরি করলে মেধাতালিকায় উপরের অবস্থানে থাকা প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন না, আবার নিয়োগ-সংক্রান্ত বিরোধও মিটবে।

কিন্তু বিচারপতি বসুর বেঞ্চ রাজ্যের যুক্তি মানতে নারাজ। আদালতের প্রশ্ন, “যেখানে রেগুলার শূন্যপদই নিয়ম অনুযায়ী পূরণ করা প্রয়োজন, সেখানে আলাদা করে সুপার নিউমেরারি পদ তৈরি করার যুক্তি কী?” আদালত আরও জানায়, যদি রাজ্য মনে করে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনও প্রশাসনিক ত্রুটি রয়েছে, তবে সেই অনুযায়ী সংশোধন করতে পারে—কিন্তু অবৈধভাবে নতুন পদ তৈরি করার অধিকার সরকারের নেই।

উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে বড় ধাক্কা, সুপার নিউমেরারি পদ তৈরির সিদ্ধান্ত খারিজ করল হাই কোর্ট
উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে বড় ধাক্কা, সুপার নিউমেরারি পদ তৈরির সিদ্ধান্ত খারিজ করল হাই কোর্ট

এই রায়ের ফলে উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হল। বিশেষ করে যাঁরা সুপার নিউমেরারি পদের ঘোষণার ভিত্তিতে আশাবাদী ছিলেন, তাঁদের সামনে প্রশ্নের পাহাড়। রাজ্য সরকারের পক্ষে এটি বড় ধাক্কা বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে জট কেন?
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ প্রাথমিক (Classes V–VIII) নিয়োগ নিয়ে মামলা চলছে। মেধাতালিকা, যোগ্যতা, লিখিত ও ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে একাধিক অসঙ্গতি সামনে এসেছে। বিভিন্ন মামলায় প্রার্থীরা দাবি করেছিলেন, তাঁদের যথাযথভাবে মার্কস দেওয়া হয়নি, ইন্টারভিউ বোর্ডে পক্ষপাতিত্ব হয়েছে এবং নিয়োগপদ্ধতি পুরোপুরি স্বচ্ছ ছিল না।

এই অবস্থায় রাজ্য বেছে নেয় সুপার নিউমেরারি পদ তৈরির পথ। যুক্তি ছিল—চলমান মামলা-মোকদ্দমা চললেও যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া যাবে। কিন্তু আদালত সেই সিদ্ধান্ত নস্যাৎ করায় নিয়োগে আবারও অনিশ্চয়তা ফিরে এল।

রায়ের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়।
যখন প্রাথমিক নিয়োগ নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে, ঠিক তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে বিপরীত রায় রাজ্যের চাপে বাড়িয়ে দিলই। নির্বাচনমুখী পরিবেশে শিক্ষা–সংক্রান্ত এই ধারাবাহিক রায় রাজ্যের কাছে উদ্বেগের।

এখন দেখার বিষয়—রাজ্য সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যায় কি না। মামলাকারী পক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, আদালতের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত। তাঁদের বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেই এই রায় জরুরি ছিল।

বর্তমানে উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে নতুন কোনও নিয়োগ তালিকা বা কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়ার আগে রাজ্যকে আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। যে কারণে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এক কথায়—রায়টি উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগের ল্যান্ডস্কেপ বদলে দিল।
এখন রাজ্য কোন পথে হাঁটে, তার দিকেই তাকিয়ে যোগ্য প্রার্থীরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত