উচ্চ প্রাথমিক মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড় হাইকোর্টে।#SuperExclusive

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ উচ্চ প্রাথমিক মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড় হাইকোর্টে। আপার প্রাইমারি তে নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অচলাব্যাবস্থা অব্যাহত, প্রতিদিনই কোন না কোন আন্দোলনের খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রায় ১৪ হাজার উচ্চ প্রাথমিক শূণ্যপদ থাকা সত্ত্বেও আটকে রয়েছে নিয়োগ। কারন হাইকোর্টে চলছে একাধিক মামলা। আপার প্রাইমারির চাকুরি প্রার্থীদের দুটি মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। ইচ্ছামত টেটের নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়া, রেসিও না মানা প্রভৃতি অভিযোগে জেরবার আপার প্রাইমারি নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হয় আজ। আপার প্রাইমারির বঞ্চিত হবু শিক্ষকদের হয়ে মামলা গুলি লড়ছেন আইনজীবী মূলত বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, ফিরদৌস সামিম, সুবীর সান্যালরা।

আরও পড়ুনঃ রিয়ার নামে চাঞ্চল্যকর তথ্য ED-র হাতে, ড্রাগ মাফিয়াদের সাথে যোগাযোগ রিয়ার?

হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকা উচ্চ প্রাথমিকের মামলা গুলি হল ১) ভানু রায় বনাম রাজ্য সরকার, এই মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের হয়ে লড়ছেন ফিরদৌস শামিম। এবং ২) আস্তারুল ইসলাম বনাম রাজ্য সরকার, এই মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের হয়ে লড়ছেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য, সুবীর সান্যাল রা। আজ কলকাতা হাইকোর্টে ভানু রায় এবং গোপা বিশ্বাস বনাম রাজ্য সরকার এই মামলাটি ওঠে। এই মামলায় বিচারপতির হাতে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জমা পড়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হল উচ্চ প্রাথমিকের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন করার শেষ সময় টি ছিল ২০১৬ সালে। কিন্তু ২০১৯ সালে তনুশ্রী মন্ডল নামের এক চাকরিপ্রার্থী অনলাইনে ফর্ম পূরণ করেন।

উচ্চ প্রাথমিক মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড় হাইকোর্টে। সময় পেরিয়ে যাওয়ার প্রায় ৩ বছর পরে আবেদন করেন জনৈকা তনুশ্রী মন্ডল। শুধুতাই নয় এই জনৈকার নাম রয়েছে হবু শিক্ষকদের প্যানেলে। সবথেকে তাতপর্যপূর্ণ বিষয় হল। অনলাইনের ফর্মে তনুশ্রী মন্ডলের কোন ছবি বা সই নেই। তা স্বত্বেও তাঁর নাম তয়েছে হবু শিক্ষকদের প্যানেলে। এই তথ্য বিচারপতির হাতে জমা পড়েছে। আগামী মাসের ১ অর্থাৎ পয়লা সেপ্টেম্বর আবার শুনানি হবে উচ্চ প্রাথমিক মামলার। ওই একই দিনে হাইকোর্টে সরকার পক্ষ কে উত্তর দিতে বলা হয়েছে এই তথ্যের ভিত্তিতে। ভানু রায় মামলায় রিট পিটিশনে এই তথ্য দেওয়া রয়েছে।

হবু শিক্ষক রা জানিয়েছেন, উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে, পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালে,এবং ফল প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৯ সালে ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ নেওয়া হয় সেখানে দেখা যায় অনেক অপ্রশিক্ষনরত এবং কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা ডাক পেয়েছে। এরই ভিত্তিতে আমরা হাইকোর্টে কেস করেছিলাম। এরপর বেশ কয়েকজন কেস পিটিশনের ভেরিফিকেশন ডাক পায় । কিন্তু এখনও প্রায় ৪২০০ জন কেস পিটিশনের অর্থাৎ রিট পিটিশনের ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ হয়নি। এরই মধ্যে কমিশনের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৯ সালে প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট বের করার রায় দিয়েছিল। পাশাপাশি মেরিট লিস্ট র উপর কারোর কোনো অভিযোগ থাকলে কমিশনে জমা করার কথা বলেছিলেন বিচারপতি। সেই মতো প্রায় ১২০০০ প্রার্থী অভিযোগ করেছিল।

অভিযোগ মূলত ছিল নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর
১) অনেক অপ্রশিক্ষনরত প্রার্থী র মেরিট লিস্ট এ অন্তর্ভুক্তি ।
২) যারা এখনো ভেরিফিকেশন এবং ইন্টারভিউ এ ডাক ই পায়নি তাদের তুলনায় কম স্কোর প্রাপ্য প্রার্থী মেরিট লিস্ট এ অন্তর্ভুক্তি।
৩) মেরিট লিস্ট প্রার্থীদের টেট ওয়েইটেজ নিয়ম বহির্ভূত বৃদ্ধি।
৪) রেশিও মেইনটেইন না করা।
৫) গেজেট না মানা।
হবু শিক্ষকদের অভিযোগ আজও আগের অভিযোগ গুলির কোন নিস্পতি হয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন