উত্তরপ্রদেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। নতুন তালিকায় ৮৪ লক্ষ ভোটার যুক্ত হলেও, আগের পূর্ণাঙ্গ তালিকার তুলনায় প্রায় ২ কোটি ভোটার কমে যাওয়ায় তা বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিসংখ্যান যে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৭৯২। অথচ এই প্রক্রিয়া শুরুর আগে ভোটার ছিল ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষের বেশি। অর্থাৎ, মোটের উপর প্রায় ২ কোটির কাছাকাছি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
তবে খসড়া তালিকার সঙ্গে তুলনা করলে ছবিটা কিছুটা ভিন্ন। ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ভোটার ছিল ১২ কোটি ৫৫ লক্ষের কিছু বেশি। সেই তুলনায় চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৮৪ লক্ষ ভোটার বেড়েছে। অর্থাৎ সংশোধন প্রক্রিয়ার পর বহু নাম ফের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ আইনি পদ্ধতি মেনেই এই সংশোধন হয়েছে এবং কোনও বৈধ ভোটারের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়নি। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৩ কোটি ২৬ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ৮৪ লক্ষের নামই শেষ পর্যন্ত তালিকায় ফিরে এসেছে। বাকি বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
এই পরিস্থিতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, যাদের নাম বাদ পড়ছে তাদের মধ্যে বিজেপির সমর্থকও রয়েছেন। দলীয় সাংসদদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দ্রুত নাম পুনর্ভুক্ত করার জন্য। শোনা যায়, অন্তত দেড় কোটি ভোটারের নাম ফের তোলার লক্ষ্য নিয়েই নেমেছিল শাসক শিবির।
কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। প্রায় ৮৪ লক্ষ ভোটারের নাম পুনরুদ্ধার হলেও লক্ষ্যের অনেকটাই অধরা থেকে গিয়েছে। ফলে নির্বাচন ঘিরে বিজেপির কৌশল ও প্রস্তুতিতে এই বিষয়টি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।
উল্লেখ্য, আগামী বছরের শুরুতেই ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হওয়ার কথা উত্তরপ্রদেশে। তার আগে এই ভোটার তালিকা বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে চলেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



