বিদ্যুৎ সংকটে হাহাকার উত্তরপ্রদেশে, বাড়ি বাড়ি চেকিংয়ের নির্দেশ; কড়া অবস্থানে যোগী সরকার

উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ঘিরে ক্ষোভ চরমে। লখনউ-সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ, বিদ্যুৎ চুরি ধরতে রাতের বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নির্দেশ প্রশাসনের।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উত্তরপ্রদেশজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ঘিরে চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। লখনউ থেকে গাজিয়াবাদ, মেরঠ থেকে গোরখপুর— একের পর এক এলাকায় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল মানুষ। এই পরিস্থিতিতেই এবার বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ চুরি ধরতে রাতের বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দিল যোগী সরকার।

প্রশাসনের দাবি, রাতের দিকে হঠাৎ বিদ্যুতের লোড অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়াতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই কারণেই বিদ্যুৎ বিভাগের আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শক্তি দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ডঃ আশিস গোয়েল। সংবেদনশীল সাবস্টেশনগুলিতে নজরদারি বাড়ানো, ট্রান্সফরমার ও লাইনের নিয়মিত পরীক্ষা এবং রাতের বিশেষ তল্লাশির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শনিবার পর্যালোচনা বৈঠকে ডঃ গোয়েল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেসব এলাকায় রাতের বেলায় আচমকা লোড বেড়ে যাচ্ছে, সেখানে বিদ্যুৎ চুরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

নোয়ডা, লখনউ, গাজিয়াবাদ, মেরঠ, মথুরা, বারাণসী, কানপুর, গোরখপুর-সহ একাধিক জেলার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা করে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গরমের মধ্যে কোনও গ্রাহক যেন অযথা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে না পড়েন।

বিদ্যুৎ দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে শহরের প্রান্তিক এলাকা এবং গ্রামীণ অঞ্চলে। বহু সাবস্টেশনে টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ থাকছে। অতিরিক্ত গরমে ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়া ও ফিডারে বারবার ত্রুটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

লখনউয়ে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ফৈজুল্লাগঞ্জ এলাকায় গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লো-ভোল্টেজে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়ের মতো ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানোর নম্বর ব্যস্ত বা বন্ধ থাকছে।

এফসিআই সাবস্টেশনের অধীন একাধিক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জলের সঙ্কটও তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার থেকে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার— সকলকে ফোন করেও সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে গাজিপুরে বিদ্যুতের তার মেরামত করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন বিদ্যুৎ কর্মীরা। অভিযোগ, দুই অভিযুক্ত সাবস্টেশনে ঢুকে ভাঙচুর ও মারধর চালায়। ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, হামলা এবং এসসি-এসটি আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে। দুই এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এক সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ারকে বিশেষ বিরূপ মন্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং এক চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে সতর্ক করা হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রবিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সূত্রের খবর, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ট্রিপিং, ফিডার বিকল হওয়া এবং আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের পর আরও বড় পদক্ষেপ হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর