নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের তীব্রতা কাটতে না কাটতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। বিক্ষোভের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব স্তরের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে, যা সরাসরি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবিকে স্বীকৃতি বলেই মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-এর নির্দেশে সোমবার শ্রমিক সংগঠন ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। রাতেই নয়ডা অথরিটি অফিসে বৈঠকের পর ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ইতিমধ্যেই অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ নগর ও গাজিয়াবাদে অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১১,৩১৩ টাকা থেকে বেড়ে ১৩,৬৯০ টাকা হয়েছে। আধা-দক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি ১৫,০৫৯ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ১৬,৮৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুধু এই দুই জেলা নয়, অন্যান্য পুরসভা এলাকাতেও মজুরি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে হয়েছে ১৩,০০৬ টাকা, অল্প-দক্ষদের ১৪,৩০৬ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের ১৬,০২৫ টাকা। রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিতেও মজুরি বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে, যেখানে অদক্ষ শ্রমিকরা পাবেন ১২,৩৫৬ টাকা, অল্প-দক্ষরা ১৩,৫৯১ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা ১৫,২২৪ টাকা।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে। তবে এটি আপাতত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা—পরবর্তী সময়ে ওয়েজ বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ী কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নয়ডার ফেজ়-২ এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার নেয়। রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা, যার জেরে দিল্লি-নয়ডা সংযোগও ব্যাহত হয়। প্রায় ৮০টি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে অশান্তি।
এই পরিস্থিতির পরেই দ্রুত পদক্ষেপ করে সরকার। শ্রমিকদের অভিযোগ শোনার পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সক্রিয় হয়। যদিও এই অশান্তির পিছনে উস্কানির সম্ভাবনা, এমনকি আন্তর্জাতিক যোগও খতিয়ে দেখছে প্রশাসনের একাংশ।
সব মিলিয়ে, বিক্ষোভের চাপেই যে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে, তা স্পষ্ট—এবং আপাতত শ্রমিকদের দাবি আংশিক পূরণে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।



