নজরবন্দি ব্যুরো: ৮৯৯ কোম্পানি আধসেনা নিয়ে ৫ জেলায় তৈরি নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়। বাংলা বিধানসভা নির্বাচনের মোট ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে ৮ দফায়। ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে ৩ দফার নির্বাচন। ভোট আবহের শুরু থেকেই কমিশন কড়াকড়ি করেছে নিরাপত্তার। একেবারে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় বাংলায় চলছে বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যেও একেক দফার নির্বাচনের পর আরো বেশি নজরদারি দেওয়া হচ্ছে সুরক্ষার। তৃতীয় দফার নির্বাচনে দুই ভিন্ন দলের দুই প্রার্থী আক্রান্ত হওয়ায় দ্রুত তৎপরতার সঙ্গে নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। অতিরিক্ত সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হবে তাঁদের।
আরও পড়ুনঃ কত সম্পত্তির মালিক কামারহাটির তৃণমূল প্রার্থী? কি বলছে মদন মিত্রের হলফনামা?
এসবের মধ্যেই আগামী কাল শনিবার রাজ্যে হতে চলেছে চতুর্থ দফার নির্বাচন। আর এই প্রথম নির্বাচন হবে রাজ্যের রাজধানীতে। এবং কলকাতা পুলিশের আওতায় হওয়া দ্বিতীয় দফার ভোট এটি। চতুর্থ দফার ৪৪টি আসনে থাকছে কলকাতার কিছু অংশ এবং লাগোয়া চব্বিশ পরগনার কিছু কেন্দ্র। কলকাতা জেলা লাগোয়া ৫ বিধানসভা কেন্দ্র যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কসবা, বেহালা পূর্ব এবং বেহালা পশ্চিমে ভোট হবে চতুর্থ দফায়। ভোটের মুখেই বদলি হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার শহরতলীর পুলিশ অফিসার। মহানগরে পুলিশ এলাকায় শনিবার ভোটের মত ভোট গ্রহণ কেন্দ্র ২৩৪৩। ভোট হতে হবে একেবারে সুরক্ষিত, সেই মর্মে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে লালবাজারের তরফ থেকে। বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি এবং নজরদারি চালানোর জন্য ডিভিশনের ডিসি ছাড়াও দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে অন্য ডিসিদের মধ্যে। কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র।
শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে ভোটের দুদিন আগে থেকেই বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেটিং। বুধবার থেকেই রুট মার্চ শুরু করেছে ৯০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সূত্রের খবর এক বুথের ভোটকেন্দ্রে থাকবেন ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান , ২ থেকে ৪ বুথ রয়েছে এরকম কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকবেন ৮ জন করে। ৫-৮ বুথ আছে এরম কেন্দ্রে থাকবেন দেড় সেকশন বাহিনী। লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে মহানগরের ভোটে ওইদিন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৯৪টি কুইক রেসপন্স টিম। ইতিমধ্যেই শহরে এসেছে ১০২ কেন্দ্রীয় বাহিনী। শহর জুড়ে থাকবে পুলিশ বাহিনী। আগামী কাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই কেন্দ্রগুলি এবং শিবির জুড়ে ১২৩টি সেক্টর মোবাইল এবং ৭৫ টি আরটি ভ্যান।
৩৭ টি জায়গায় গোলমাল থামাতে রাখা হয়েছে হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড। সকাল থেকেই রাস্তায় থাকবেন একাধিক ইন্সপেক্টর।সন্দেহ জনক গাড়ি দেখলেই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শহরের ৪০ টি জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নাকা চেকিং করার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। তবে শুধু কলকাতা নয়, নিরাপত্তা বলয়ে আগামী কালের ৫ জেলাকে মুড়ে ফেলতে নিযুক্ত থাকছে ৮৯৯ কোম্পানির আধসেনা। হাওড়া জেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে মোট ১৪০ কোম্পানি অধাসেন, হুগলির ১০ আসনে ভোট কাল, তার জন্য থাকবে মোট ১৭৪ কোম্পানির আধাসেনা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ১১টি আসনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ১৮৪ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। আলিপুর দুয়ারের ৫ আসন পাহারা দেবে মোট ১০৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কোচবিহারের ৯ আসনের জন্য বরাদ্দ ১৮৭ কোম্পানির আধাসেনা।
অর্থাৎ সব মিলিয়ে মোট ৭৮৯ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবেন ৪৪টি কেন্দ্রের বুথ গুলিতে। বাকি ১১০ কোম্পানি পাহারা দেবে পোস্টাল ব্যালট, স্ট্রং রুম এবং একাধিক জরুরিকালীন পরিস্থিতির জন্য। পোস্টাল ব্যালটের সুরক্ষার জন্য নিযুক্ত থাকবে ৭২ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে ২০ কোম্পানি আধাসেনা। ১৫ কোম্পানি মোতায়েন থাকবেন ভোট এবং ভোট পরবর্তী এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এবং বাকি ৩ কোম্পানির আধাসেন থাকবে আপদকালীন কার্যের জন্য। কোচবিহার এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কিছু বুথ স্পর্শকাতর বিবেচনা করে নজির বিহীন নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে ওই দুই জেলায়।



