রাজ্যে বেকারত্বের হার কমেছে। কিন্তু একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা কর্মীর সংখ্যা। পারিবারিক ব্যবসা বা বাড়ির কারখানায় কাজ করা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। সম্প্রতি বার্ষিক কর্মিবল সমীক্ষা বা পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (২০২৩-২৪) প্রকাশিত হয়েছে। এই সমীক্ষা থেকেই উঠে এসেছে বাংলার কাজের বাজার সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বাংলায় ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৯ শতাংশ। করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে বেকারত্বের হার ছিল ১১.৩ শতাংশ। অর্থাৎ, বেকারত্বের হার গত দু’বছরে কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান যদিও অন্য আরেকটি তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে, সেখানে জানা যাচ্ছে বাড়ির ব্যবসা বা চাষবাসের কাজে বিনা পয়সায় কাজ করা মানুষের হার বেড়েছে।
২০২১-২২ অর্থবর্ষে রাজ্যে কর্মরত মানুষের ৯.২ শতাংশ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতেন। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ১১.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, দু’বছরে বিনা আয়ে কাজ করা কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। মজার ব্যাপার, সরকারি খাতায়-কলমে তাঁদের স্বনির্ভর বলে ধরে নেওয়া হয়েছে! অর্থাৎ, তাঁরা বেকারের দলে পড়ছেন না, কিন্তু তাঁরা আসলে কোনও রোজগারও করছেন না! অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মিবলের এই ১১ শতাংশের বেশি মানুষ আসলে অন্য জায়গায় কাজ না পাওয়ার কারণেই বাড়ির ব্যবসায় বা ছোট কারখানায় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, পরিসংখ্যান আরও বলছে, রাজ্যে কর্মরতদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ মানুষ স্বনির্ভর বা নিজের ব্যবসা বা কারখানা চালান। ১১.৪ শতাংশ মানুষ পারিবারিক ব্যবসা বা কারখানায় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন। রাজ্যের কর্মরত মানুষের ২৩.১ শতাংশ ঠিকা শ্রমিক বা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। স্থায়ী চাকরিতে থাকা বেতনভুক কর্মীর সংখ্যা মাত্র ২০.৪ শতাংশ। সেখানে দু’বছর আগে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে বেতনভুক কর্মীর হার ছিল ২১.৮ শতাংশ।
দেশের কথা বলতে গেলে, এই রিপোর্ট বলছে ভারতে গত কয়েক বছরের মতোই বেকারত্বের হার ৩ শতাংশের ঘরে আটকে রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে বেকারত্বের হার ছিল ৩.২ শতাংশ। তবে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১০.২ শতাংশ। বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি বাম শাসিত কেরলে। সেখানে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৯.৯ শতাংশ।



