নজরবন্দি ব্যুরো: বর্তমানে দেশে বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।সন্তোষজনক চাকরি পাওয়া নিয়ে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। দেশে সরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। সিএমআইই-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭ অগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশে বেকারত্ব এক লাফে পৌঁছেছে ৯.৬৬ শতাংশে। তার আগের সপ্তাহে তা ছিল ৬.৭৩%।
আরও পড়ুন:পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে অনুব্রতর, ফের নোটিস CBI-র, বুধবার হাজিরার নির্দেশ
শুধু গ্রামেই ওই হার ৫.৯৭% থেকে বেড়ে পৌঁছেছে ১০ শতাংশের কাছে। শহরেও বেকারত্ব ৯ শতাংশের উপরে। ৩১ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে এই হার ছিল ৮.৩১%।গত দু’বছর ধরে লকডাউনের জেরে বেসরকারি ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করেছে বিভিন্ন সংস্থা। এরফলে সারা দেশেই ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে বেকারত্ব।

সিএমআইই জানিয়েছে জুন মাসে সারা দেশে বেকারত্বের হার খুবই হতাশাজনক লক্ষ্য করা গেছে। ২০২২ সালের মে মাসে কর্মসংস্থানের পরিমাণ ৪০.৪ কোটি থেকে জুন মাসে ৩৯ কোটিতে নেমে এসেছিল। তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে মে মাস থেকে জুন মাসের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য অর্থনীতিবিদ মহানন্দা কাঞ্জিলাল বলছেন, ‘‘২০১৪ থেকেই এ দেশে জিডিপি বৃদ্ধির হার নিম্নগামী। ফলে বেকারত্ব বেড়েছে নাগাড়ে। কোভিড হানার আগেই তার হার ছিল ৪৫ বছরের সর্বোচ্চ। অতিমারিতে আরও অসংখ্য মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। এখন সারা বিশ্বের মতোই আর্থিক সঙ্কট ঘনীভূত হচ্ছে ভারতে। সার্বিক ভাবে চাহিদা কমে গিয়েছে। চাহিদা কমলে উৎপাদন কমে। তখন কর্মনিযুক্তিও কমতে থাকে। তাই বাড়ছে বেকারত্ব।’’
দেশে এক সপ্তাহে তিনগুণ বাড়ল বেকারত্ব, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬.৭৩%

বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সুদ বৃদ্ধির জেরে শিল্পের মূলধন জোগাড় করার খরচ বেড়েছে। নতুন প্রকল্পে লগ্নি আটকে যাওয়ার পাশাপাশি বহু পুরনো প্রকল্পের সম্প্রসারণও ধাক্কা খেয়েছে বাড়তি আর্থিক বোঝায়। তার উপরে রয়েছে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির চাপ। ফলে বহু সংস্থায় নিয়োগ কার্যত বন্ধ। আর এরফলে বাড়ছে বেকারত্ব।



