ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা মেটাতে ‘সাহায্য’ করতে চাইলেন ট্রাম্প, প্রত্যাখ্যান করল নয়াদিল্লি

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাত সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও, তা প্রত্যাখ্যান করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হিমালয়ের পাদদেশে ভারতের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর ভারত ও চিনের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ এক নতুন মোড় নিল। গত বৃহস্পতিবার, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, ভারত ও চিনের মধ্যে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা দূর করতে তিনি সাহায্য করতে ইচ্ছুক। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।

ট্রাম্পের প্রস্তাব এবং ভারতের প্রতিক্রিয়া

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক শেষে, ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “চিন বিশ্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, এবং আমি মনে করি চিনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো হতে চলেছে।” ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি সীমান্তে সংঘর্ষের আবহ দেখতে পাচ্ছি, যা খারাপ। যদি সুযোগ থাকে, আমি সাহায্য করতে চাই, কারণ এটি বন্ধ করা উচিত।”

তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দেয়, “আমরা সব সময়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি।” বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীও তার সামাজিক মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, “যে কোনও প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের সমস্যা থাকুক, আমরা সবসময়ই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পন্থা অনুসরণ করেছি।”

ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা: পুরনো ইস্যু

ভারত ও চিনের সীমান্ত সমস্যা নতুন নয়। ১৯৬২ সালের যুদ্ধ এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে এলএসিতে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োগ হয়নি। তবে ২০১৭ সালে ডোকলাম অঞ্চলে দুই দেশের বাহিনী একে অপরকে মুখোমুখি দাঁড় করায়। দীর্ঘ ৭৩ দিন ধরে চলা এ সংঘাত শেষে কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্তু এরপরও সিকিম, লাদাখ এবং অরুণাচল প্রদেশে চিনের নানা সীমান্ত লঙ্ঘনের চেষ্টা অব্যাহত ছিল।

২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা নিহত হয়। এই সংঘর্ষের পরেও কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত

মোদী সরকার জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা সমাধানে তাদের আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনা পথই তাদের প্রধান পন্থা। একদিকে যেমন ট্রাম্প মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, অন্যদিকে ভারত সরকার সীমান্ত সংঘাত সমাধানে নিজের কূটনৈতিক পথে এগিয়ে চলেছে।

ভারত ও চিনের সীমান্ত সমস্যা দীর্ঘদিনের, তবে ভারত বিশ্বাস করে যে, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মোদী সরকার তাদের কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে কীভাবে ভারত ও চিনের সীমান্ত সমস্যা সমাধান হবে, তা সময়ই বলবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর