ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, আকাশে চলছিল তুমুল সংঘর্ষ, ধ্বংস হয়েছিল একাধিক যুদ্ধবিমান—আর তাঁর একটি ফোন কলেই নাকি থেমে যায় সেই সংঘাত। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। ‘বোর্ড অফ পিস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের উপর ২০০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক চাপানোর হুমকি দেওয়ার পরই নাকি ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধ থেকে সরে আসে।
ট্রাম্পের দাবি, গত বছরের মে মাসে ভারত–পাকিস্তান সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তাঁর কথায়, “ভয়ংকর যুদ্ধ চলছিল। দামি দামি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হচ্ছিল। অন্তত ১১টি ফাইটার জেট ধ্বংস হয়েছিল।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বলেও জানান।


মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন—যদি যুদ্ধ বন্ধ না হয়, তবে দুই দেশের উপরই ২০০ শতাংশ করে বাণিজ্য শুল্ক চাপানো হবে এবং কোনও বাণিজ্য চুক্তি করা হবে না। ট্রাম্প বলেন, “ওরা দু’পক্ষই লড়তে চাইছিল। কিন্তু যখন অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রসঙ্গ উঠল, তখনই যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্ত নেয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল এবং আলোচনার পর দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।
তবে এই দাবি নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। যদিও ভারতের সরকারি অবস্থান ভিন্ন। নয়াদিল্লির বক্তব্য, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসে পাকিস্তানি সেনার ডিজিএমও-র তরফে, যিনি সরাসরি ভারতীয় সেনার ডিজিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই সামরিক পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।


ভারত সরকার ট্রাম্পের বক্তব্যকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলেনি, তবে কখনও তাঁর দাবি সমর্থনও করেনি। সাম্প্রতিক ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অর্থনৈতিক চাপকে কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রসঙ্গ সামনে এনে ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকা তুলে ধরতে চাইছেন। তবে বাস্তবে সংঘাত থামার পেছনে কতটা কূটনীতি আর কতটা সামরিক যোগাযোগ কাজ করেছিল—তা নিয়েই এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।







