ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বড় পদক্ষেপ নিলেন। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে আমেরিকায় আমদানি হওয়া ভিনদেশি ওষুধের উপর ১০০% শুল্ক আরোপ হবে বলে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতীয় ফার্মা সংস্থাগুলির উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। কারণ আমেরিকা ভারতের অন্যতম বড় ওষুধ রফতানি বাজার।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যদি কোনও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি আমেরিকার মাটিতে উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করে, অথবা অন্তত শিলান্যাস পর্যায়ে যায়, তবে তারা ১০০% শুল্কের হাত থেকে মুক্তি পাবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি বিদেশি সংস্থাগুলিকে আমেরিকায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


২০২৪ সালে মার্কিন মুলুকে ভারত থেকে প্রায় ৩১,৬২৬ কোটি টাকার ওষুধ রফতানি হয়েছিল। ২০২৫-এর প্রথম ছয় মাসেই সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে গিয়েছে ৩২,৫০৫ কোটি টাকা। তাই হঠাৎ করে ভিনদেশি ওষুধে ১০০% শুল্ক আরোপের ফলে ভারতীয় ফার্মা ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুধু ওষুধ নয়, রান্নাঘর ও স্নানঘরের পণ্যেও শুল্ক। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, কিচেনওয়্যার এবং বাথরুম কসমেটিক্সে ৫০% এবং হোম ডেকর ফার্নিচারে ৩০% শুল্ক আরোপ হবে। বিদেশি তৈরি বড় ট্রাক আমদানিতেও ২৫% শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, জাতীয় সুরক্ষা এবং আমেরিকার অর্থনীতি রক্ষার স্বার্থেই এই নয়া পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আমাদের দেশের সংস্থাগুলিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করা জরুরি। বিদেশি তৈরি পণ্য মার্কিন কোম্পানির বাজার দখল করছে। তাই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অর্থনৈতিক দর্শনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে ভারতীয় ফার্মা সংস্থাগুলি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করে, তবে তারা নতুন শুল্ক এড়াতে পারবে। অনেক সংস্থা ইতিমধ্যেই আমেরিকায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
ফলে, ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকদের সামনে দুটি পথ— হয় আমেরিকার বাজার হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে, নয়তো স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিশ্ব ফার্মা বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।








