ত্রিপুরার খোয়াই সীমান্ত ঘিরে চাঞ্চল্য। ত্রিপুরা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ নিয়ে ফের সরব স্থানীয়রা। অভিযোগ, মাত্র ২০০০ টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পেরিয়ে নির্বিঘ্নে ভারতে ঢুকছে বাংলাদেশিরা। সীমান্তে কাঁটাতার, সিসি ক্যামেরা ও ফ্লাড লাইট থাকা সত্ত্বেও ঘটছে এমন অবৈধ অনুপ্রবেশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশ এ বিষয়ে উদাসীন।
শনিবার রাতে করঙ্গীছড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১১ জন বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। অভিযোগ, এদের কাছ থেকে প্রতি মাথাপিছু ২০০০ টাকা করে নিয়েছিল স্থানীয় দালাল শঙ্কু দাস। এরপর ওই অনুপ্রবেশকারীদের দুটি অটোরিকশায় খোয়াই শহরে পাঠানো হচ্ছিল। সোমবাড়িয়া বাজারের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহভাজন দুটি অটোরিকশা আটক করলে সত্য প্রকাশ্যে আসে। জনতা বুঝতে পারেন যাত্রীরা বাংলাদেশি নাগরিক।
উত্তেজিত জনতা দুই অটোচালক বিশ্বজিৎ দাস ও অতীশ দাসকে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও খোয়াই থানার আধিকারিকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই কিছু গাড়িচালক ও দালালচক্র অবৈধ বাংলাদেশিদের শহরে পৌঁছে দিচ্ছে বিএসএফের নাকের ডগায়।
পুলিশ আটক করে মোট ১১ জন বাংলাদেশিকে। জিজ্ঞাসাবাদে ছয়জন স্বীকার করে তাঁরা বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। বাকিরা দাবি করে, তাঁদের বাড়ি কমলপুর ও শিলচরে। তদন্তে জানা যায়, সবাই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার জন্য ২০০০ টাকা করে দিয়েছিল দালালদের হাতে।
ত্রিপুরা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ মামলায় খোয়াই পুলিশ ইতিমধ্যেই ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত অটোচালকদের বিরুদ্ধেও পৃথক ধারায় মামলা হয়েছে। দুটি অটোরিকশা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং দালালচক্রের অন্য সদস্যদের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার রানাদিত্য দাস জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন— এত সুরক্ষিত সীমান্ত, এত আধুনিক সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রতিদিন বাংলাদেশিরা সহজে ভারতে ঢুকছে?
খোয়াই মহকুমার ৬১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের প্রায় ৯৯ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও হাই পাওয়ার ফ্লাড লাইট রয়েছে। তবুও প্রতিদিন অনুপ্রবেশ ঘটছে উত্তর প্রান্তের এলাকাগুলিতে — বড়বাগাই, বেলছড়া, বগাবিল, এস-কে পাড়া ইত্যাদি। এই এলাকাগুলির নিরাপত্তায় রয়েছে ১০৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন বিএসএফ। অপরদিকে বাচাইবাড়ী, গোপালনগর ও বিদ্যাবিল অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে ৭০ নম্বর ব্যাটালিয়ন বিএসএফ।
তবুও গত তিন মাসে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশিদের ঢোকার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলছেন, কিছু বিএসএফ জওয়ান ও দালালচক্রের যোগসাজশে চলছে এই অবৈধ প্রবেশ ব্যবসা। কয়েকদিন আগেই বিদ্যাবিল এলাকায় তিন বাংলাদেশি গরুচোর গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ে মারা যায়।
ত্রিপুরা বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এখন আতঙ্কে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি। কেন্দ্রের ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর রাজ্যে এমন সীমান্ত দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলও। স্থানীয়দের দাবি, যদি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সীমান্তের আইন-শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।







