নজরবন্দি ব্যুরোঃ তৃনমূল ভবনে বসলো ড্রপ বক্স। প্রথমবার নির্বাচনের আগে আবেদনের জন্য শাসক দলের ভবনের সামনে বসলো এই বক্স। আজই ছিল তৃনমূলের স্লোগান প্রকাশের দিন। ২১ এর নির্বাচনে কোন কেন্দ্রে কোন প্রার্থী দাঁড়াবে সেটা যদি একটা বড়ো ফ্যাক্টর হয়, তার মধ্যেও আরও বড়ো ফ্যাক্টর হল স্লোগান। একেক দল এক এক স্লোগান তুলছে, উঠছে কপিরাইট ইস্যু, অন্য দল নিজেদের কাজের জন্য ব্যাবহার করে নিচ্ছেন, বের করছেন একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার মতোই স্লোগান। তৃণমূল মমতা সেন্টিমেন্ট কাজে লাগাতে ব্যাবহার করেছিল ‘দিদিকে বলো’, ‘বাংলার গর্ব মমতা’র স্লোগান।
আরও পড়ুনঃ ব্র্যাণ্ড মমতা গড়ে দেবে ফারাক, তাই আবার ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়।’
ভোটের মুখে তৃনমূল শুরু করেছে ‘খেলা হবে’। আর তার পর থেকেই রীতিমত অন্যান্য দলের মধ্যেও বেশ বড়ো প্রভাব ফেলেছে সেই খেলা ঘোরানোর গল্প। খেলা ঘোরাতেই একে অপরকে কটাক্ষ করছে, নিজেদের সভা মঞ্চ থেকে প্রশ্নও তুলছে কোন খেলা ঘোরানোর কথা বলছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কেউ কেউ আবার একধাপ এগিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছেন স্লোগানকে। কালই রাজ্যের বিজেপির নেতা আনুপম হাজরা জানিয়েছিলেন, “খেলা হবে নলের ডগায়।”
আজ তৃনমূল ভবনে আনুষ্ঠানিক ভাবে দল প্রকাশ করেছে ভোট স্লোগান। শুধু তাই নয় কোন স্লোগানের জন্য কোন অর্থ তাও স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে দলের তরফ থেকে। বিগত দিনে স্লোগান নিয়ে যতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে তৃনমূল, কিন্তু “খেলা হবে” স্লোগানের ভুল অর্থ প্রকাশ করেছেন অনেকে। একাধিক বার বিরোধীরা প্রশ্নও তুলেছেন, প্রশাসন কোন খেলার কথা বলেছে স্লোগানের মধ্যে দিয়ে। তবে এবারের স্লোগানেও মমতাকে মুখ করে আবেগের পয়েন্ট কুড়িয়েছে দল। গোটা তৃণমূল ভবন ছেয়ে গেছে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগানে। উত্তরবঙ্গের প্রচার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলছেন “সাগর থেকে পাহাড়/মানুষের রায়/বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়”। আর ওয়াকিবহাল মহল মনে করেও, যদি তৃনমূলের এক্স ফ্যাক্টর কিছু থেকে থাকে তা হল মমতার এই পাশের বাড়ির ইমেজ।
তৃনমূল ভবনে বসলো ড্রপ বক্স। তবে স্লোগান আর ব্র্যান্ড মমতার পাশাপাশি আরও চমক এনেছে দল তৃনমূল। ভবনের সামনে বসানো হয়েছে ড্রপ বক্স। যেখানে ২১ এর নির্বাচনে মমতার হাত শক্ত করতে আবেদন করতে পারেন যে কেউ। পাশাপাশি ১০ বছরের শাসনের হিসেব নিকেশের খতিয়ান দিয়েছেন দলের নেতারা। তৃণমূলের এই আবেদন পত্রের জন্য বক্সের ভাবনাকে অভিনব বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ওই বক্সের পাশেই ভোটের অর্থ সংগ্রহের জন্যও আলাদা একটি বাক্স বসিয়েছে তৃণমূল। এখন মমতার হাত শক্ত করে ধরতে চেনা মুখের বাইরে কতজন আবেদন করেন সেটাই এখন দেখার।



