নদিয়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে এবার বড়সড় সংঘাত। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে কৃষ্ণনগর জেলা সাংগঠনিক সভাপতির পদ থেকে সরানোর জন্য সরব হলেন ছয় বিধায়ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁরা সরাসরি চিঠি লিখে এই দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে বিধায়করা অভিযোগ করেছেন, মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগর সাংগঠনে সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করছেন। তাঁর সময়ের অভাবে সাংগঠনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। বিধায়কদের অভিযোগ, মহুয়া সাংসদীয় এলাকার চেয়ে দিল্লির কাজেই বেশি মনোযোগী। তাঁর বদলে অন্য কাউকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হোক, এ দাবি জানিয়েছেন বিধায়করা।
এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ছয় বিধায়ক—উজ্জ্বল বিশ্বাস, রুকবানুর রহমান, বিমলেন্দু সিনহা, কল্লোল খানসহ আরও দু’জন। তাঁদের বক্তব্য, মহুয়া মৈত্রের স্থানীয় সাংগঠনিক ভূমিকা অত্যন্ত দুর্বল। কৃষ্ণনগরের সাংগঠনিক ক্ষেত্রে সাংসদকে খুব একটা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কাজে বিধায়কদের সহযোগিতা তিনি পান না। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর পারফরম্যান্সের উপর দল আস্থা রাখলেও স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত নতুন নয়।
বিধায়কদের এই চিঠি এমন সময়ে এল, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের রদবদলের জল্পনা চলছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন এই অভিযোগ নিয়ে কী পদক্ষেপ করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। মহুয়ার মতো জাতীয় স্তরের নেত্রীর বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরের এমন অভিযোগ তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিবেশে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বড় দলের জন্য স্থানীয় ও জাতীয় স্তরের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহুয়া মৈত্র ও বিধায়কদের মধ্যে চলা এই সংঘাত নদিয়া জেলার তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে।



