ভারত সফর শেষে ঢাকায় ফিরে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করলেও, বাংলাদেশি সাংবাদিকরা নীরব থেকেছেন। “মুখে কুলুপ এঁটেছেন” — এমনই কড়া মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের সাংবাদিকরা ভারত সফরে গিয়েছিলেন। ভারতের বিদেশ সচিব যখন বললেন, তাঁরা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন চান — তখনই সাংবাদিকদের উচিত ছিল প্রতিক্রিয়া জানানো। কিন্তু কেউ একটি প্রশ্নও তোলেননি!”


তৌহিদের মতে, সাংবাদিকদের করা উচিত ছিল সরাসরি প্রশ্ন — “এই কথা গত ১৫ বছর বলেননি কেন? আগের নির্বাচনগুলো কি তাহলে সঠিকভাবে হয়নি?” কিন্তু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেউ প্রশ্ন করেননি, যা তাঁকে বিস্মিত করেছে।
তিনি বলেন, “আমি অবাক হয়েছি, কারণ দলের মধ্যে বহু অভিজ্ঞ ও সিনিয়র সাংবাদিক ছিলেন। ভারতের বিদেশ সচিব যখন সুযোগ দিলেন, তখন অন্তত একটি প্রশ্ন তোলা যেত। বিব্রত না করলেও, প্রশ্ন করার সাহস তো দেখানো যেত।”
বাংলাদেশের এই বিদেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের সাংবাদিকদের উচিত সত্য বলার জায়গা তৈরি করা। “আমরা যদি নিজের অবস্থান থেকেই প্রশ্ন না তুলি, তাহলে অন্যরা আমাদের হয়ে ভাববে না,” — মন্তব্য তাঁর।


এদিন Sofks-এর এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়ে আমরা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি। আদালতের নির্দেশেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরতের অনুরোধ জানিয়েছি। ভারত এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। তারা নিজেদের মতো করে বিষয়টি দেখছে।”
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশেষ করে আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২6-এর আগে ভারতের অবস্থান নিয়ে যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে, তার মধ্যেই এই বিবৃতি নতুন মাত্রা যোগ করল।
আরও এক প্রশ্নে, রাষ্ট্রসংঘের নতুন আবাসিক প্রধানকে বাংলাদেশে কাজের ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “সমস্যা তৈরি হয়, এমন কেউ আসবেন না। তবে আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশ সম্ভবত নতুন কাউকে রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত করতে চায় না বা তার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
তৌহিদ হোসেনের এই বক্তব্যে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ মনে করছেন, সরকারের সমালোচনাতেও তাঁর বক্তব্য বাস্তবসম্মত, আবার কেউ বলছেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং ভারতের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যে।
বাংলাদেশের বিদেশ নীতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি যে ক্রমেই জটিল হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই — এবং এই মন্তব্য হয়তো তারই ইঙ্গিত বহন করছে।








