আগামীকালের আবহাওয়া: ৪ নভেম্বর বঙ্গে বৃষ্টির বিরতি, আসছে শীত! ৩-৪ ডিগ্রি কমবে তাপমাত্রা

৪ নভেম্বর কলকাতা, হাওড়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বৃষ্টি হতে পারে? উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে? আগামী তিন দিনে কতটা নামবে রাতের তাপমাত্রা, রইল সম্পূর্ণ জেলাভিত্তিক পূর্বাভাস।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আগামীকাল বুধবার, ৪ নভেম্বর কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বদল আসতে চলেছে। ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর (Cyclone Murasu) প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা বুধবার সকাল থেকেই অনেকটাই কাটতে পারে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (India Meteorological Department) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সকালের দিকে কলকাতা, হাওড়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে বেলা বাড়ার পর থেকে রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় শুষ্ক আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও একই রকম পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের কিছু এলাকায় সকালের দিকে বৃষ্টি হতে পারে, বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। পাশাপাশি আগামী তিন দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাতের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। ফলে বৃষ্টির বিরতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় হেমন্তের ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে।

কলকাতা ও হাওড়ায় আগামীকালের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

কলকাতা ও হাওড়ায় বুধবার সকালের দিকে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। দু-একটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পূর্বাভাস নেই। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে এবং দিনের বাকি সময়ে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা।

কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। হাওড়াতেও তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি প্রায় একই রকম থাকার সম্ভাবনা। আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসবে।

ঘূর্ণিঝড় মুরাসু অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে স্থলভাগে প্রবেশের পর দুর্বল হতে শুরু করেছে। ফলে এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে আগামীকালের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বুধবার সকালের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার দু-একটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।

তবে বৃষ্টির এই পরিস্থিতি মূলত বুধবার সকাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ কাটতে পারে এবং অধিকাংশ জেলায় আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় প্রধানত শুষ্ক আবহাওয়া থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

অর্থাৎ বুধবার দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য বৃষ্টির আশঙ্কা আগের দিনের তুলনায় কমবে। তবে সকালের দিকে বাইরে বেরোনোর সময় কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ছাতা সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

উত্তরবঙ্গের আগামীকালের আবহাওয়া

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও বুধবার থেকে শুষ্ক পরিস্থিতি ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের কিছু এলাকায় ৪ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর পাহাড়ি এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে।

জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বুধবার থেকে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও বৃষ্টির কোনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই। ফলে উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকায় দিনের বেলায় আবহাওয়া তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকার কথা।

পাহাড়ি এলাকায় অবশ্য রাত ও ভোরের দিকে ঠান্ডার অনুভূতি বাড়তে পারে। বিশেষ করে দার্জিলিংয়ের মতো উঁচু এলাকায় দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কম থাকার কারণে শীতের আমেজ বেশি অনুভূত হতে পারে।

আগামী কয়েকদিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?

বৃষ্টির বিরতির পর আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় শুষ্ক ভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। উত্তরবঙ্গেও এই সময় মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে।

তাপমাত্রার ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। আগামী তিন দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এর ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভোর ও রাতের দিকে হালকা শীতের অনুভূতি বাড়বে।

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতল এলাকাতেও রাতের তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে হেমন্তের আমেজ আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে ৯ ও ১০ নভেম্বর কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা ও নদিয়ার কিছু এলাকায় ফের বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা রয়েছে।

বাংলার উপকূলে কি কোনও সতর্কতা রয়েছে?

ঘূর্ণিঝড় মুরাসু অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার পর দুর্বল হয়ে পড়েছে। ৩ নভেম্বর বিকেলে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের সামুদ্রিক বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের উপর অবস্থান করছিল এবং মধ্যরাতের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর, সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সামুদ্রিক এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

তবে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর কারণে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনও বিশেষ আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়নি। বাংলার উপকূলের পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ সামুদ্রিক বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

একনজরে আগামীকালের আবহাওয়া

জেলা / অঞ্চল ৪ নভেম্বরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
কলকাতা সকালের দিকে বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, পরে শুষ্ক
হাওড়া সকালের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা, পরে শুষ্ক
হুগলি দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে
উত্তর ২৪ পরগনা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, পরে শুষ্ক
দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা
পূর্ব মেদিনীপুর সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি
পশ্চিম মেদিনীপুর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা
ঝাড়গ্রাম দু-এক জায়গায় বৃষ্টি
বাঁকুড়া সকালের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা
পুরুলিয়া বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে
পূর্ব বর্ধমান মূলত শুষ্ক
পশ্চিম বর্ধমান মূলত শুষ্ক
বীরভূম মূলত শুষ্ক
মুর্শিদাবাদ মূলত শুষ্ক
নদিয়া মূলত শুষ্ক
দার্জিলিং সকালের দিকে হালকা বৃষ্টি
কালিম্পং সকালের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা
জলপাইগুড়ি মূলত শুষ্ক
আলিপুরদুয়ার মূলত শুষ্ক
কোচবিহার মূলত শুষ্ক
উত্তর দিনাজপুর মূলত শুষ্ক
দক্ষিণ দিনাজপুর মূলত শুষ্ক
মালদহ মূলত শুষ্ক

সূত্র: ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ৩ নভেম্বর ২০২৬-এর পূর্বাভাস ও সামুদ্রিক বুলেটিন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর