নজরবন্দি ব্যুরো: ১৯ আগস্ট কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গেই বর্ষার দাপট বজায় থাকার সম্ভাবনা। আগামীকালের আবহাওয়া নিয়ে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সঙ্গে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের এক-দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
কলকাতায় বুধবার আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। দিনভর দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। শহর ও সংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আবহাওয়ার মেজাজ বারবার বদলানোর সম্ভাবনা থাকছে।
তাপমাত্রার খুব একটা বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩২-৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ২৮ ডিগ্রির আশেপাশে। বৃষ্টির ফাঁকে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে।
এই আবহাওয়ার পিছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপজনিত পরিস্থিতি। ১৮ আগস্ট দুপুরের IMD বুলেটিন অনুযায়ী, নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে ঝাড়খণ্ডের উপর অবস্থান করছিল এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কার্যকলাপ সক্রিয় রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে ১৯ আগস্ট সকাল ৮:৩০ পর্যন্ত সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের এক-দু’টি জায়গায় ৭-১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে IMD। একই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সতর্কতাও রয়েছে।
তবে ১৯ আগস্ট সকাল ৮:৩০-এর পর থেকে ২০ আগস্ট সকাল ৮:৩০ পর্যন্ত পূর্বাভাসে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বুধবার বৃষ্টির পরিস্থিতি যথেষ্ট সক্রিয় থাকবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ-সহ সমস্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯ আগস্ট সকাল ৮:৩০-এর পর থেকে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের এক-দু’টি জায়গায় ৭-১১ সেন্টিমিটার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পাহাড়ি জেলাগুলিতে বৃষ্টির সঙ্গে মেঘলা আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভারী বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে জল জমা বা যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শুধু স্থলভাগ নয়, সমুদ্রেও সতর্কতা জারি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঘণ্টায় ৩৫-৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই সময় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাতের সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। খোলা মাঠে বা জলাশয়ের কাছে না থাকা, গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নীচে আশ্রয় না নেওয়া এবং ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে নিরাপদ পাকা জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির সময়ে যান চলাচলেও ধীরগতি তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামীকালের আবহাওয়া কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে মূলত মেঘলা, আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল থাকার সম্ভাবনাই বেশি। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট আরও বেশি হতে পারে এবং তিন জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। ফলে ১৯ আগস্ট ছাতা সঙ্গে রাখা যেমন জরুরি, তেমনই বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সময় অপ্রয়োজনে বাইরে বেরোনো এড়ানোই নিরাপদ।



