নজরবন্দি ব্যুরো: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে বদলেছে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। আগামীকালের আবহাওয়া অর্থাৎ ১৭ আগস্ট কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হতে পারে। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ১৬ আগস্টের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-ওডিশা উপকূলের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও সুস্পষ্ট হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। এর প্রভাবে ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৭ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তার মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার কয়েকটি জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই তিন জেলায় এক-দু’টি জায়গায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলির এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
কলকাতার ক্ষেত্রেও স্বস্তির কোনও বড় খবর নেই। ১৭ আগস্ট শহর ও সংলগ্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতাও রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে এক-দু’টি জায়গায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে জল জমার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা এবং আন্ডারপাসে সাময়িক জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তা এবং দুর্বল কাঠামোর ক্ষতির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
উপকূলের পরিস্থিতিও নজরে রাখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, মাঝে মাঝে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া বইতে পারে। তাই ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মৎস্যজীবীদের।
কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে লোকাল কশনারি সিগন্যাল নম্বর ৩ এবং সাগরদ্বীপ বন্দরে সেকশনাল সিগন্যাল নম্বর ১ জারি রাখা হয়েছে। ফলে উপকূল এবং সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
১৭ আগস্টের পরেও অবশ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাটছে না। ১৮ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ১৯ থেকে ২২ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে।
ফলে আগামীকালের আবহাওয়া এককথায় দক্ষিণবঙ্গের জন্য ভেজা ও দুর্যোগপূর্ণই থাকতে চলেছে। কলকাতায় বৃষ্টি হলেও সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার দিকে। বাইরে বেরোলে বজ্রপাত ও জল জমার পরিস্থিতি মাথায় রেখে সতর্ক থাকাই নিরাপদ।



