নজরবন্দি ব্যুরো: বাংলায় চলছে ২১ এর নির্বাচন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কালে প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু শুরুর দিন থেকেই কমিশনের একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সে কমিশনের ৮ দফায় ভোট করানো হোক বা একাধিক পুলিশ থেকে আমলাকে সরিয়ে দেওয়া। এখন প্রায় শেষ লগ্নে চলে এসেছে বাংলার নির্বাচন। আগামীকাল শেষ দফা। আর ঠিক তার আগে পর পর দুটি গুরুতর অভিযোগ বহনকারী চিঠি তৃণমূলের তরফ থেকে গেলো নির্বাচন কমিশনের কাছে।
আরও পড়ুনঃ ১৫০ টাকায় টিকার বদলে ‘Y’ ক্যাটেগরি নিরাপত্তা, আদর কে আজব উপহার কেন্দ্রের!
প্রথমত কমিশন প্রার্থীদের গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ে যেসব নির্দেশিকা জারি হয়েছে তা অস্পষ্ট এবং বিভ্রান্তিকর কর বলে ইতিমধ্যেই একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে কমিশনের কাছে। তার পরই গেলো দ্বিতীয় চিঠি। ঘাসফুল শিবিরের কোনো সমর্থককে অবৈধ ভাবে আটকে রাখতে পারেনা কমিশন, এই মর্মে তৃণমূলের তরফে আইনজীবী সঞ্জয় বসু নির্বাচন কমিশন, সুদীপ জৈন সহ মোট ৫ জনকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এরআগেও মুখ্যমন্ত্রী একাধিক বার বলেছেন নির্বাচনের আগে ইচ্ছাকৃত ভাবে তথা গেরুয়া শিবিরের অঙ্গুলি হেলনে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা ডেকে পাঠাচ্ছে শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো আজকের চিঠিতে আইনজীবী সঞ্জয় বসু স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন নির্বাচন কালে সুরক্ষার নামে একাধিক জায়গায় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের বেআইনি ভাবে আটকে রাখছে কমিশন। ঘটনায় তিনি সপ্তম দফার ভোটের দিনের উদাহরণ টেনে এনেছেন। সঙ্গে এও বলেছেন চলতি নির্বাচনে বীরভূমে এই ঘটনা সবথেকে বেশি ঘটেছে বলে। উল্লেখ্য নির্বাচন কালে বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে নজরবন্দি করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগেই!
বীরভূম প্রসঙ্গে আইনজীবী, দায়িত্বে থাকা নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীর কিছু পুরোনো কারনামা তুলে ধরেছেন। ঘটনা ২০১৬ সালের, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন সাধারণ মানুষকে প্রকাশ্যে চড় মেরেছিলেন নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী। নন্দীগ্রামের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ওপর উত্তর দেওয়ায়, খুশি কমিশন আরো ‘সুষ্ঠ নির্বাচনের’ লক্ষ্যে তাঁকে পাঠানো হয়েছে বীরভূমে। এক্ষেত্রে সঞ্জয় লিখেছেন, নগেন্দ্রনাথ বীরভূমে বদলি হওয়ায় সাধারণ কর্মীবৃন্দ আরো বেশি ভয় পাচ্ছেন অবৈধ আটকের। তবে সঞ্জয় বসু তাঁর চিঠির মাধ্যমে কমিশনকে হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আইন নিজের হাতে তুলে কমিশন এই ধরনের ঘটনা ফের ঘটালে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তিনি।
সঙ্গে আরও কয়েকটি বিষয়েও আলোকপাত করেছেন তিনি। সঞ্জয় লিখেছেন, সুষ্ঠ নির্বাচনের বাহানায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের বেআইনি ভাবে আটক করা যাবেনা। আটক করে মিথ্যে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো যাবেনা। আটক করলেও তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতে হবে।







