নজরবন্দি ব্যুরোঃ ৫০ হাজার অনুদান ঘোষনা করেছেন মমতা। গতকাল নেতাজি ইন্দোরে দাঁড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এবারও রাজ্য সরকার ৫০ হাজার টাকা করে দেবে প্রত্যেকটা পুজো কমিটিকে। করোনা কালের শারদ উৎসবে গত বছরেও এই অনুদান দিয়েছিল সরকার।
আরও পড়ুনঃএখনো চ্যালেঞ্জার দেয়নি বাকি দল, বুধে দুপুরেই কেন্দ্র-প্রচার শুরু মমতার
গতবার মমতা বলেছিলেন, “আমাদের টাকা নেই পয়সা নেই সেটা ঠিক। কিন্তু আমি জানি পুজো কমিটিগুলো খুব প্রবলেমে রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে একটা স্বল্প দান তো আমরা দিই। যদিও এটা দান নয় ভালবাসা। এবার যেহেতু আপনাদের সমস্যা একটু বেশি রয়েছে। এ বার রাজ্য সরকার ৫০ হাজার টাকা করে দেবে প্রত্যেকটা পুজো কমিটিকে”।
এবছরেও সেই ‘স্বল্প’ অনুদান বজায় রেখছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তার পর থেকেই বেজায় চটেছে গেরুয়া শিবির। লিখিত অভিযোগ জমা করেছে কমিশনের কাছে। বিজেপির যুক্তি, ৩৬ হাজার এমন ক্লাবের মধ্যে কলকাতা পুরসভা এলাকায় রয়েছে প্রায় ২,৫০০ ক্লাব। ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে এই অনুদান ঘোষণা প্রভাব ফেলতে পারে ভোট যুদ্ধে।
পুজোতে ক্লাবগুলিকে ৫০ হাজার অনুদান দিচ্ছেন মমতা, বিজেপির ভাবনা প্রভাব পড়বে ভোটে।
আর তার পর থেকেই একপ্রকার যুদ্ধ শুরু হয়েছে ট্যুইটারে। ভবানীপুরের আগেই এই মুহুর্তে ট্যুইট পালটা ট্যুইটে ব্যাটল গ্রাউন্ড সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ দায়েরের পর তৃণমূলের বক্তব্য বাংলায় হিন্দুত্ব বিরোধী বিজেপি।

দলের ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ইতিমধ্যে ট্যুইট করে লেখা হয়েছে, ‘হিন্দু সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের স্বঘোষিত ধারক-বাহকরা কোনও ভাবেই হিন্দুত্বকে বোঝে না। হিন্দুদের উৎসবকে সম্মান করতেও ভুলে গিয়েছে ওরা। মা দুর্গা এবং বাংলার ঐতিহ্য সম্পর্কে তাদের শ্রদ্ধার বহর প্রকাশ হয়ে গেল!’ একই সঙ্গে ট্যুইট করেছেন একাধিক নেতা মন্ত্রী।
মুকুল রায় লিখেছেন, “গত বছর, @BJP4UP শাসিত ইউপি সরকার বাঙালিদের তাদের সবচেয়ে কাছের উৎসব পালন করতে নিষেধ করেছে! এবং এখন, এই বছর @BJP4Bengal ইতিমধ্যে একই পথে হাঁটছে।” সঙ্গে প্রশ্ন করেছেন “হিন্দুত্বের উপরে এই আঘাত কি মেনে নেওয়া যায়?”

একে একে নেতা মন্ত্রীরা ট্যুইট করছেন বিজেপির হিন্দুত্ব বিরোধী মনোভাব নিয়ে। সূত্রের খবর দলের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‘বিজেপি ইনসাল্ট মা দুর্গা’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে ঝড়ের গতিতে প্রচারের। কেউ কেউ দুর্গা নিয়ে দিলীপের মন্তব্যের পুরানো ভিডিও সামনে এনেছেন।

তবে এসবে ডোণ্ট কেয়ার ভাব নিয়ে দিলীপ বলছেন, ‘‘তৃণমূলের কাছ থেকে হিন্দুত্ব শিখতে হবে না বিজেপি-কে।’ সঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের জ্ঞান দেওয়ার আগে ওঁরা ভাবুন। এই বাংলায় দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য আদালতেও যেতে হয়েছে অতীতে, এখন কি হিন্দুত্বের প্রতি সেই সব অপমানের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইছে তৃণমূল?’’



