দেবের বিরুদ্ধে কমিশন নেবার অভিযোগ, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত শঙ্কর দলুই!

দেব বিতর্কের মধ্যেই ঘাটাল সাংগাঠনিক জেলার চেয়ারম্যান পদ থেকে শঙ্কর দলুইকে বহিষ্কার করল তৃণমূল। তাঁর জায়গা এলেন রাধাকান্ত মাইতি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শনিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন সাংসদ অভিনেতা দেব (Dev)। আর তারপরই রাজনৈতিক সন্ন্যাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে তিনি জানিয়েছেন, আমি রাজনীতি ছাড়লেও রাজনীতি আমাকে ছাড়বে না! অর্থাৎ, তৃণমূলের হয়েই যে তিনি আগামী লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা কার্যত নিশ্চিত। দেব বিতর্কের মধ্যেই ঘাটাল (Ghatal) সাংগাঠনিক জেলার চেয়ারম্যান পদ থেকে শঙ্কর দলুইকে বহিষ্কার করল তৃণমূল (TMC)। তাঁর জায়গা এলেন রাধাকান্ত মাইতি।

আরও পড়ুন: অন্যায়ভাবে গ্রেফতার বামেদের প্রাক্তন বিধায়ক? থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি সেলিমের

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা। আর তারপরেই সংসদে আবেগতাড়িত বক্তব্য। সংসদের ভাষণে তিনি বলেন, ‘সংসদে আমার শেষ দিন’। ইন্সটাগ্রামেও লেখেন সে কথা। ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১০ বছর তাঁকে কাজের সুযোগ করে দেবার জন্য। প্রতিটা বক্তব্যে, পদক্ষেপে ছিল একটা বিদায়ী সুর, অবসরের বার্তা। তখনই জল্পনা শুরু হয়, রাজনৈতিক জীবন থেকে কি সন্ন্যাস নিতে চলেছেন তিনি? কথা হচ্ছে, অভিনেতা সাংসদ দেবকে (Dev) নিয়ে।

দেবের বিরুদ্ধে কমিশন নেবার অভিযোগ, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত শঙ্কর দলুই!
দেবের বিরুদ্ধে কমিশন নেবার অভিযোগ, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত শঙ্কর দলুই!

এরপরই তৃণমূলনেত্রী (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডাকেন দেবকে (Dev)। দু’জনের সঙ্গেই আলাদা আলদা বৈঠক করে শেষমেশ হাসিমুখে বেরোন দেব। বলেন, “রাজনীতি আমাকে ছাড়বে না। রাজনীতির থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।” পরিষ্কার হয়ে যায়, মমতার কথায় অভিমান ভেঙেছে অভিনেতার। কিন্তু কিসের এই অভিমান? কেনই বা রাজনীতি ছাড়তে চাইছিলেন দেব (Dev)?

দেবের বিরুদ্ধে কমিশন নেবার অভিযোগ, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত শঙ্কর দলুই!

দেবের বিরুদ্ধে কমিশন নেবার অভিযোগ, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত শঙ্কর দলুই!

বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে। সেখানে ঘাটালের (Ghatal) প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দলুইয়ের গলায় শোনা (অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) যাচ্ছে, ‘সাংসদ দেব (Dev) তহবিলের টাকার ওপর ৩০ শতাংশ কাটমানি নেন।’ এরপরই মুখ খোলেন দেব। বলেন, “যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে আমি কাটমানি নিয়েছি তাহলে রাজনীতির পাশাপাশি অভিনয়ও ছেড়ে দেব।”

যদিও শঙ্কর দলুই এ কথা বলেছেন কিনা তা নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ দেব (Dev)। বরং তিনি বলেন, “শঙ্কর দলুই আমার রাজনৈতিক গুরু। তাঁর হাত ধরেই ঘাটাল চিনেছি।” শঙ্করেরও সাফ কথা, “দেব ঘাটালের গর্ব। সাংসদ হিসেবে দেব সব সময় মানুষের পাশে থেকেছেন। বন্যার সময় দেব আসেন। শুধু একবার নয় প্রতিটা বন্যার সময়ে তিনি এলাকায় এসেছেন।” অডিও ক্লিপ নিয়ে শঙ্কর নিশানা করেন বিরোধীদের।

দেবের বিরুদ্ধে কমিশন নেবার অভিযোগ, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত শঙ্কর দলুই!

কিন্তু, একটা বিষয় পরিষ্কার ছিল, ঘাটালের (Ghatal) তৃণমূল নেতৃত্বের ব্যবহারে খুশি ছিলেন না দেব (Dev)। নিশ্চয়ই শনিবারের বৈঠকে মমতা বা অভিষেককে সে কথা জানিয়েছেন তিনি। আর তাই তড়িঘড়ি এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল দল। দেবের সাথেও শঙ্কর দলুইয়ের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে তাও স্পষত হয়ে গেল তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত