‘লক্ষ্মীদের বন্দি করার হুঁশিয়ারি’— বিজেপি নেতাকে ‘নতুন কালীদাস’ কটাক্ষ ঋতব্রতর

লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্যে উত্তাল বাংলা। কলাইকুন্ডায় পাল্টা সভা করে কটাক্ষ তৃণমূলের, দুঃখপ্রকাশ কালীপদের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে মহিলাদের উদ্দেশে বিজেপি নেতার মন্তব্য ঘিরে পশ্চিম মেদিনীপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। কলাইকুন্ডার মাঠে পাল্টা সভা করে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি আক্রমণ শানাল বিজেপির বিরুদ্ধে। সভা থেকে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্তকে ‘নতুন কালীদাস’ বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর নিজের অবস্থান বদলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কালীপদ।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার ঘাটালের দাসপুরে কলাইকুন্ডার মাঠে বিজেপির ‘সংকল্প জনসভা’ থেকে। সেখানে কালীপদ সেনগুপ্ত মন্তব্য করেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়ার পর মহিলারা যখন তৃণমূলকে ভোট দিতে যাবেন, তখন যেন তাঁদের স্বামীরা ঘরে ‘বন্দি’ করে রাখেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। রবিবার বিতর্কের মধ্যেও নিজের বক্তব্যে অনড় থাকলেও পরে বিজেপির তরফে জানানো হয়, দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য সমর্থন করা হচ্ছে না।

সোমবার গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গিয়ে এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীদের নাকি ভোটের দিন ঘর থেকে বার হতে দেওয়া হবে যাবে না! ওরা লক্ষ্মীদের চেনে না। মহিলারা শুধু রান্নাই করেন না, পাঁচালি পড়েন, শিল্প গড়েন, সৃষ্টিও করেন।” মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “মেয়েদের ঘরে বন্দি করে রাখার হুঁশিয়ারি কি অপরাধ নয়?” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বয়স ৬০ পেরোলেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তা হিসেবে মহিলারা থাকবেন।

কলাইকুন্ডার পাল্টা সভা থেকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নতুন এক কালীদাস বলছেন, মহিলাদের তালা বন্ধ করে রাখুন। এই কালীদাস-হরিদাসদের ভাবনা মধ্যযুগীয়।” সভায় উপস্থিত তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও বিধায়ক অজিত মাইতি মহিলাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কি তালিবানি ফতোয়া মেনে নেবেন? আপনাদের ভোট দিতে আসা আটকানো যাবে না।”

এই সভার সময়ই কালীপদ সেনগুপ্ত নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি জানান, দলের নির্দেশেই বক্তব্য রাখছেন। কালীপদের কথায়, “আমার বক্তব্যে যদি মহিলারা আহত হন, তা হলে আমি ব্যথিত।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিজেপি লক্ষ্মীর ভান্ডারের বিরোধী নয় এবং ক্ষমতায় এলে আরও বেশি অর্থ দেওয়া হবে। পাল্টা কটাক্ষ করে তিনি তৃণমূলের নেতাদের ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন, বিজেপি করার ‘অপরাধে’ পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বাকচায় বহু মহিলাকে লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, লক্ষ্মীর ভান্ডারকে কেন্দ্র করে মহিলাদের অধিকার, সম্মান ও ভোটাধিকার নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর