নজরবন্দি ব্যুরো: মনোনয়ন দাখিল করে সকলকে চমকে দিলেন, জেলবন্দি বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার স্ত্রী। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে থাকা তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার স্ত্রী টগরী সাহা পঞ্চায়েত ভোটে লড়বেন। পেশায় স্কুল শিক্ষিকা টগরী গত বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দাখিল করলেন বড়ঞার পঞ্চায়েত সমিতির ১১ নম্বর আসনে। তবে নির্দল প্রার্থী হিসাবে।
আরও পড়ুন:কমিশন কিংবা সরকার চায়নি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হোক, বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর
রাজনীতিতে কোনওদিনই দেখা যায়নি তাঁকে। তাঁর নাম তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ছিল না। নেই। বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির ১১ নম্বর আসনে তালিকা রয়েছে তৃণমূলের প্রার্থী কেরিমা বিবির নাম। কেরিমা বিবি মনোয়ন দাখিল করেছেন গত বুধবার। তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার স্ত্রী টগরী সাহা কেন পঞ্চায়েত ভোটে লড়বেন, তা নিয়ে আমজনতার মধ্যেই কৌতূহল বেড়েছে।

অন্যদিকে, জীবনকৃষ্ণ সাহা ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, ‘আমি স্ত্রীকে জানাব, তিনি যেন মনোনয়ন তুলে নেন।‘ জানা যাচ্ছে জেলবন্দি বিধায়কের মত হল, ‘অন্য দল থেকে স্ত্রী দাঁড়ালে তা কখনওই সমর্থন করি না। আমি তৃণমূল করি, তাই অন্য কিছু ভাবব না। আমার সঙ্গে স্ত্রীর এই নিয়ে কোনও কথা হয়নি। তবে উনি স্বাধীন মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে আমার সমর্থন নেই।’

বৃহস্পতিবার তখন দুপুর ১২টায় টগরী সাহা মনোনয়ন দাখিল করেন। বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার গাড়িতে চেপেই তাঁর স্ত্রী টগরী সোজা এসে নামেন বিডিও অফিসের গেটে। দু’জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে সোজা ঢুকে যান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছে। সব কাগজপত্র জমা দিয়ে সই করে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘর থেকে বেরিয়ে যান। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা না বলে সোজা গিয়ে গাড়িতে উঠে যান।
মনোনয়ন দাখিল করে সকলকে চমকে দিলেন, জেলবন্দি বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার স্ত্রী

উল্লেখ্য যে টগরী সাহার ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি, শেষ পর্যন্ত তাঁকেই প্রতীক দেবে দল। এই আশ্বাস পেয়েই মনোনয়ন পেশ করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার আলিপুরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে ঘনিষ্ঠ মহলে জীবনকৃষ্ণ দাবি করেছেন, স্ত্রী যে মনোনয়ন পেশ করছেন, তা তিনি আদালতে উপস্থিত পরিচিতদের কাছ থেকে খবর পান। সাধারণত তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন আদালতে পেশ করার দিন। কিন্তু এদিন আসেননি।



