সই জাল করা হয়েছে, বন্যা ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত তৃণমূল নেত্রী, চাঁচল মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহঃ মালদহের হরিশচন্দ্রপুরে বন্যার ত্রাণ কেলেঙ্কারিতে এবার চাঞ্চল্যকর মোড়। এই নিয়ে দু’জন নিজেদের নির্দোষ দাবি জানিয়ে আত্মসমর্পন করল। দু’জনেরই দাবি তাদের সই জাল করা হয়েছে। এর পেছনে বড় মাথা রয়েছে। তদন্ত হলেই সেটা সমস্ত সস্ত্য বেরিয়ে আসবে দাবী দুই জনের।

আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee: চলতি মাসের শেষে উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী, থাকছে বিশেষ কর্মসুচী

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের দু’সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই থানায় আত্মসমর্পণ করলেন বন্যার ত্রাণ কেলেঙ্কারির আরও এক অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির নারী-শিশু ত্রাণ কর্মাদক্ষ রোশনারা খাতুন। সোমবার সকালে তিনি থানায় আত্মসমর্পণ করেন। আজ তিনি চাঁচল মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন।

এদিন তিনি জানান তিনি এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত নন। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তার সই জাল করা হয়েছে। এর আগে তিনি ২০১৯ এবং ২০২১ সালে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনি থানায় আত্মসমর্পণ করলেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের শেষে হরিশ্চন্দ্রপুর বন্যার ত্রাণ কেলেঙ্কারির আরও এক অভিযুক্ত বড়ই অঞ্চলের তৃণমূল নেতা আফসার হোসেন আত্মসমর্পণ করেন। তিনিও জেরার মুখে জানিয়েছিলেন দলের বড় বড় রাঘব-বোয়াল এর পিছনে রয়েছে। তিনি নির্দোষ তাকে ফাঁসানো হয়েছে। গত সপ্তাহে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তাকে দশ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকে ২০১৭ সালের বন্যার ক্ষতি-গ্রস্তদের জন্য দুই দফায় ১৩ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এই টাকা প্রকৃত বেনেফিশিয়ারি না পেয়ে বেশ কিছু তৃণমূল নেতা এবং জন-প্রতিনিধিদের পকেটে গিয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মতো দুর্নীতির অভিযোগ হয়েছে। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।কলকাতা হাইকোর্ট প্রথম তদন্তের  নির্দেশ দেয়।নির্দেশের জেরে স্থানীয়  বিডিও বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য ও কর্মাধক্ষের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।

সই জাল করা হয়েছে, দাবী অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রীর 

সই জাল করা হয়েছে, দাবী অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রীর 
সই জাল করা হয়েছে, দাবী অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রীর

অভিযুক্তরা আগাম জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে। এরই মধ্যে তারা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। যদিও দুজন হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেও বাকিরা পায়নি।  তারপর অভিযুক্তদের তরফে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ ও বাকিদের জামিনের আবেদন জানিয়ে সুপ্রীম কোর্টে যায় অভিযুক্তরা। কিন্তু সেখানেও এক নির্দেশ বজায় থাকে।রায় আসার পর নড়ে চড়ে বসে জেলা প্রশাসন । ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।।এরপরে আজ রোশনা খাতুন সহ দুজন পলাতক অভিযুক্ত আত্মসমর্পন করল। বাকি এক জন কি করে তা দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত