নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিব্যেন্দুকে জেলা কমিটিতে রেখে দিয়ে অধিকারীবাড়িকে বার্তা তৃণমূলের। ভোটের কয়েকমাস আগে একদা তৃণমূলের অতি ঘনিষ্ঠ অধিকারী পরিবারের সাথে ভাঙ্গন দেখা যায় দলের। যখন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। একইসঙ্গে ঘোষণা করেন “মোদির হাতে মেদিনীপুরের ৩৫টা সিট তুলে দেব।” বিতর্কিত ভাবে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে ভোটে জিতলেও মোদীকে ৩৫ নয় মাত্র ৯ টি সিট দিতে পারেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুনঃ বিধানসভায় শপথে গরহাজির নিশীথ, জগন্নাথ। বিধায়ক পদ ছাড়ার জল্পনা তুঙ্গে।
এদিকে বাড়ির সবথেকে বড় শিশির বাবুও ইতিমধ্যেই বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েছেন। তবে বাড়ির অপর ছেলে দিব্যেন্দু রয়ে গেছেন তৃনমূলেই। এমন অবস্থায় ভোটে বিজেপির শোচনীয় হারের পরেই প্রশ্ন উঠছিল তবে অধিকারী পরিবারের ভবিষ্যৎ কি। এমন টানাপোরেনের পরিস্থিতিতেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের কমিটিতে রেখে দেওয়া হল তমলুকের তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে। শুক্রবার তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন মহাপাত্র। ছিলেন জেলা থেকে জেতা তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়ক ও জেলা কমিটির নেতারাও। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দলবিরোধী কাজের জন্য খেজুরীর প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রঞ্জিত মণ্ডলকে দল বহিষ্কার করছে। সেই সঙ্গে বহিষ্কার করা হয়েছে জেলা পরিষদের এক কর্মাধ্যক্ষকেও। তবে জেলা কমিটিতে তথা দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে জেলা পরিষদের প্রাক্তন পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সোমনাথ বেরাকে।
যাকে তাড়িয়েছিলেন শুভেন্দুই। তবে অধিকারী বিরোধীদের দাপট জেলা তৃণমূলে বাড়লেও দিব্যেন্দু অধিকারীকেও জেলা কমিটির পদে রেখে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে এর মাধ্যমে শুভেন্দু পরিবারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল। এই বিশয়ে সৌমেনবাবু এদিন জানিয়েছেন, “ভোটের সময় দিব্যেন্দুবাবু দলের হয়ে কাজ না করলেও দলের বিরুদ্ধেও কোনও কাজ করেননি। তাই আপাতত দিব্যেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কড়া কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। জল্পনা এখনও আছে যে উনি বিজেপিতে যেতে পারেন। কিন্তু এটাও সত্যি যে উনি এখনও যাননি। ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিন্ন করে দেন দিব্যেন্দু অধিকারী। দলের কোনও কাজে তিনি না থাকলেও দল সম্পর্কে কোনও মন্তব্যও করতে শোনা যায়নি তাঁকে। তাই তাঁকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জেলা নেবে না। যা সিদ্ধান্ত রাজ্যস্তর থেকে হবে। ভোটের সময় উনি দলের হয়ে কাজ করেননি তা সব জায়গায়ই দেখেছি। কিন্তু দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এমন প্রমাণও নেই। তাই ওনার অবস্থানটা কী তা রাজ্য নেতৃত্ব বিচার করবে।”
দিব্যেন্দুকে জেলা কমিটিতে রেখে দিয়ে অধিকারীবাড়িকে বার্তা তৃণমূলের। তবে শিশিরকে ফিরে আসার সুযোগ দিলেও শুভেন্দুকে দল সে সুযোগ দেবে না সেব্যাপারে নিসচিত দলের অন্দরমহল।



