নজরবন্দি ব্যুরো: নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই যেন তৃণমূলে বেসুরোদের তালিকা বেড়ে চলেছে। রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এই বেসুরোদের তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন। কয়েকদিন আগেই ফেসবুক লাইভে এসে নাম না করে দলের বিরুদ্ধে তাঁর গলায় ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক আঙিনায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে নিজেদেরই দলের জেলা পরিষদ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন।
আরও পড়ুন: বনমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়


তিনি হলেন, হাওড়া জেলা পরিষদের মেন্টর কল্যাণ ঘোষ। তিনি প্রাক্তন বনমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সেচমন্ত্রী হওয়ার পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজে লেগে পড়েন। প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের কোণঠাসা করে তাঁদের মারধর এবং বিভিন্ন মিথ্যে মামলায় ফাঁসান! এমনকি রাজীব এলাকায় নিজের পছন্দমতো লোকেদের নিয়ে বলয় তৈরি করেছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কল্যানবাবু। সেইসঙ্গে পুকুর ভরাট, বেআইনি নির্মাণ, তোলাবাজি–সহ নানা অবৈধ কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন।
ভোটের আবহে জেলা পরিষদের মন্তব্যকে ঘিরে বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আর এর ফলে ফের একবার দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে এল। কল্যাণ ঘোষ বলেন, ‘রাজীববাবু সেচমন্ত্রী থাকাকালীন বালি তোলা থেকে রাজ্যের কোষাগারে রাজস্ব সবচেয়ে কমে যায়। বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই অবস্থা হয়েছিল। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য এমন বেআইনি কাজ করেছিলেন। নিজের আত্মীয়দের পাকা সরকারি চাকরি দিয়েছেন। অথচ এলাকার কয়েকটি ছেলেকে চুক্তির চাকরি দিয়েছেন।’
রাজীবের মুখ ও মুখোশ আলাদা, ক্ষোভ উগড়ে দিলেন খোদ দলীয় নেতা, কল্যাণ ঘোষ বলেন, ‘দল থেকে চলে যেতে পারতেন। তা না করে হাতে–পায়ে ধরে দলে থেকে গেলেন। মন্ত্রী হয়ে কাজের সুযোগ পেয়েও কিছু করেননি।’ তাঁর গুরুতর অভিযোগ, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তলে তলে বিজেপির সঙ্গে বোঝাপড়া করে চলছেন। বনমন্ত্রীর মুখ ও মুখোশ আলাদা। তিনি দেখতে ভালো এবং মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন। তাই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। দলের ক্ষতি করছে, দলকে ব্ল্যাকমেল করছেন।









