বিমানসংস্থার সঙ্গে অবৈধ লেনদেন, তৃণমূলের তহবিলে ইডির বড় পদক্ষেপ! ৪৪০ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশির পর দলটির কালীঘাট কার্যালয়-সংক্রান্ত অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ইডি সূত্রের দাবি। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বেআইনি বলে অভিযোগ করেছে।

ইডি সূত্রে দাবি, তদন্তে তৃণমূলের দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই বিপুল অঙ্কের অর্থ গিয়েছে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন (Carewell Aviation) এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে। ওই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিমান পরিষেবা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত বলেই তদন্তকারীদের দাবি।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দলীয় তহবিল থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন একটি বিমান এবং একটি অগাস্টা (Agusta) হেলিকপ্টার কিনেছিল। পরে সেই বিমান ও হেলিকপ্টারই তৃণমূলের নেতাদের ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো। এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি এবং তহবিল ব্যবহারের বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছে ইডি।

তদন্তকারীদের মতে, পুরো লেনদেনের মধ্যে আর্থিক অনিয়ম বা অর্থ পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে দলীয় তহবিলের অর্থ কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, সেই সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন-সহ একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালায় ইডির বিভিন্ন দল। তদন্তের অংশ হিসেবে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের মালিকের অফিস ও বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সংস্থার মাধ্যমেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বিমান ভাড়া নেওয়া হতো।

ইডি আরও জানতে চাইছে, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্টে কোন কোন উৎস থেকে অর্থ এসেছে এবং সেই অর্থের উৎস ও ব্যবহার কতটা আইনসম্মত। পাশাপাশি শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি ও রেশন সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও অর্থ দলীয় তহবিলে প্রবেশ করেছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই পুরো পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। দলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে করা এক বিবৃতিতে দল জানিয়েছে, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনিভাবেই এর মোকাবিলা করা হবে।

ইডির এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং এই অভিযোগের আইনি পরিণতি কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন