বিধাননগরের (Bidhannagar) প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)-কে গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে চলা আর্থিক অনিয়ম ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের দাবি, রাজারহাট (Rajarhat) ও নিউ টাউন (New Town)-সহ একাধিক এলাকায় তাঁর এবং সহ-অভিযুক্ত অদিতি মুন্সি (Aditi Munsi)-র নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। একই সঙ্গে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) এই মামলায় ECIR নথিভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, রাজারহাটের জগদীশপুর, বিষ্ণুপুর, থাকদাঁড়ি এবং নিউ টাউন মৌজায় একাধিক জমি কেনাবেচার নথি তাঁদের হাতে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ২০২১ ও ২০২২ সালে বিভিন্ন সময়ে এই সম্পত্তিগুলির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছিল। এছাড়া দমদম (Dum Dum) মৌজায় প্রায় ১,৩৫৯ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।
তদন্তকারী সংস্থার একাংশের দাবি, এখনও পর্যন্ত রাজারহাট-নিউ টাউন এলাকাতেই প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই সম্পদের মূল্য সম্পর্কে ইডি (Enforcement Directorate) বা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police) এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও সম্পত্তির তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও সূত্রের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের আগে দেবরাজ চক্রবর্তী বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তে প্রায় ১০০টি মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করার পর স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাঁকে পুরুলিয়া (Purulia) থেকে গ্রেফতার করে। পরে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে দেশবন্ধুনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, বাগুইআটি (Baguiati) থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। মামলায় জোরপূর্বক জমি লেনদেন, তোলাবাজি, ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়, সম্পত্তির মূল্য কম দেখানোর অভিযোগ, সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং ডি.সি. গ্লোবাল (D.C. Global)-এর মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে সহ-অভিযুক্ত অদিতি মুন্সির নির্বাচনী হলফনামায় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই মামলার আর্থিক লেনদেনের দিকটি খতিয়ে দেখতে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় পৃথক তদন্ত শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ECIR নথিভুক্তি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত ইডির তরফে কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি।
এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।






