বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে বাংলার শাসকদল তৃণমূলে। চতুর্থবার ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্য সামনে রেখে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে দল—এমনই ইঙ্গিত মিলছে কালীঘাটে টানা বৈঠকের পর। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দলীয় সূত্রে খবর, বুধবার ও বৃহস্পতিবার কালীঘাটে একাধিক দফায় বৈঠক করেন মমতা ও অভিষেক। উপস্থিত ছিলেন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনও। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের দাবি, প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।


এবারের তালিকায় একাধিক চমক থাকতে পারে বলেই জল্পনা। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, বাংলার এক জনপ্রিয় গায়িকা এবং সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া এক অভিনেত্রীকে প্রার্থী করা হতে পারে। ফলে সাংস্কৃতিক ও বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা দেখা যেতে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনে নবীন নেতৃত্বকে সামনে আনার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। সেই ভাবনার প্রতিফলন এবারের নির্বাচনে স্পষ্ট হতে পারে। দলীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ৪০ জন নতুন ও তরুণ মুখ প্রার্থী তালিকায় জায়গা পেতে পারেন। যুব নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়ে ভোটে নতুন বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল।
তবে শুধু নতুন মুখ নয়, প্রবীণদের ভূমিকাও পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। বরং কিছু অভিজ্ঞ নেতাকে নির্বাচনী টিকিট না দিয়ে সংগঠনের দায়িত্বে রাখা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। এতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন উঠলেও দলীয় নেতৃত্বের দাবি—নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়েই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।


এদিকে, একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র বদলের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের ইঙ্গিত, কৌশলগত কারণে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে নতুন আসনে প্রার্থী করা হতে পারে। ফলে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল এবার ‘রিসেট’ কৌশলেই এগোচ্ছে—যেখানে নতুন মুখ, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস এবং আসন সমীকরণ—সবকিছুই থাকছে ভোটের বড় রণনীতির অংশ হিসেবে।









