রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাইলেও সিদ্ধান্ত বদল করে তৃতীয়বার ঘাটালের প্রার্থী হয়েছেন টলিউড অভিনেতা তথা ঘাটালের বিদায়ী সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব (TMC Candidate Dev)। তৃণমূলের তরফে নাম ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রচারে নেমে পড়েছেন তিনি। এমনকি গত দুবারের তুলনায় এবার বিপুল ভোটে জিতবেন বলেও আশাবাদী। এবার সেই দেবই এক অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্ম নিয়ে মনের কথা শেয়ার করলেন সকলের সঙ্গে।

আরও পড়ুন: শিয়ালদহ শাখায় বাতিল ট্রেন, ঘুরপথে চলবে একাধিক লোকাল, টানা ২০ দিন ভোগান্তি আমজনতার!
পশ্চিম মেদিনীপুরের হরিরামপুরের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ঘাটালের তারকা তৃণমূল প্রার্থী দেব। বক্তব্যের শুরুতেই জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, সকলের আশীর্বাদ সকলের দরকার, সে রাম হোক বা রহিম হোক, ওপরে এমন একটা শক্তি আছে যাকে আমরা ভগবান বলি। আমরা ভেদাভেদ করি, অনেকগুলো দল করে রাখি কিন্তু ওপরওয়ালার কাছে সবাই সমান।’ নিজের অতীত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘কোনও দিন ভাবিনি হিরো হব। ছোট একটা ছেলে বোম্বে চলে যায়। সেখান থেকে ফিরে এসে পরিশ্রম করে এবং হিরো হয়ে যায়। একটা সময় মনে হয়েছিল সবকিছু পেয়ে গিয়েছি।’

রাজনীতিতে পা রাখার সেই পুরনো স্মৃতি নিয়ে দেব বলেন, ‘ঠাকুর আমার জন্য অন্য একটি মঞ্চ করে দিল যার নাম ছিল রাজনীতি। যেহেতু আমরা ধর্মের মঞ্চে আছি ধর্ম আমাকে একটাই কথা শেখায় মানুষকে ভালো রাখা। যে যেই ধর্মের হোক না কেন। আমার ২ টাকা রোজগার হলে সেইটুকু দিয়েই কতজনের ভালো করতে পারলাম ধর্ম আমাকে সেটাই শেখায়।’ এই ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন দেব। ক্যাপশনে লেখা, ‘জয়-শ্রী-রাম হোক বা জয়-বাংলা, ধর্মের পরম ধর্ম মানুষকে ভালো রাখা, মানুষকে শান্তিতে রাখা। মনের কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছা হলো।’
‘জয়-শ্রী-রাম হোক বা জয়-বাংলা..’, ঘাটালের হাইভোল্টেজ ভোটের আগে মনের কথা শেয়ার করলেন দেব

চলতি বছরের শুরুতেই দেবের রাজনীতি ছাড়া নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। সংসদে দাঁড়িয়ে শেষ বক্তব্যও দিয়েছিলেন। দশ বছর সাংসদ থাকার পরও ঘাটালের মানুষের জন্য ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্বপ্ন পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ ছিল তাঁর মধ্যে। এরপরই দলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন দেব। সেই বৈঠকের পরই রাজনীতিতে থেকে যাওয়ার কথা জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরামবাগের সভা থেকে দেবের উপস্থিতিতেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) কার্যকর করার ঘোষণা করেন।



