নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই নতুন অভিযোগ উঠছে। বিচারপতির ধমক আর তিরস্কার শুনতে শুনতে কান ব্যাথা হয়ে গিয়েছে পর্ষদের আইনজীবীদের। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে কই? হাতে নাতে প্রমান হওয়ার পরেই সিবিআই রদন্ত থেকে বাঁচতে অভিযুক্তরা কেউ ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছেন কেউ আবার সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু তাতে তেমন কোন কাজ হয়নি। তদন্ত চলছে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশেই।
আরও পড়ুনঃ সুদ সমেত অঙ্কিতার টাকা ববিতাকে দিতে হবে, নির্দেশ বিচারপতির
এদিকে নয়া অভিযোগ উঠেছে নাবালককে চাকরি দেওয়ার। সূত্রের খবর টেটে পর্ষদের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা এবার নতুন অস্ত্র প্রয়োগ করতে চলেছেন। সূত্রের দাবি, পর্ষদ এক নাবালককেও শিক্ষকের চাকরির পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়েছিল। যদিও সে অকৃতকার্য হয়। তবুও তার হাতে আসে চাকরির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। পর্ষদ তাকে ২০১৭ সালে প্রাথমিকের শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করার নিয়োগপত্র দেয়। সেই নাবালক চাকরি অর্থাৎ প্রাথমিকে শিক্ষকতা করছেন পুরোদমে, বেতনও নিচ্ছেন।

সূত্রের খবর, এই নাবালক ২০১৪ সালে যখন টেট পরীক্ষায় বসে তখন তাঁর বয়েস ছিল ১৬ বছর ৯ মাস। অর্থাৎ সাধারণ হিসেবে তখন তার একাদশ শ্রেণীতে পড়ার কথা। অভিযোগ এই নাবালক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। পরে টাকার বিনিময়ে ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরির নিয়োগপত্র দেয় পর্ষদ। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, এমন নাবালকের সংখ্যা নাকি ১-২ জন নয়, জনা ২০!

অন্যদিকে আজ হাই কোর্টে একটি টেট মামলার শুনানি ছিল, সেখানে মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম অভিযোগ করেন ২ হাজার ৭৮৭ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে, যারা ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষাতেই বসেননি! এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ২ হাজার ৭৮৭ জনের চাকরির আবেদনপত্র আদালতের কাছে জমা দিতে বলেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পর্ষদ ওই ২ হাজার ৭৮৭ জনের চাকরির আবেদন পত্র জমা দিতে পারেনি। সেই নথি নাকি হারিয়ে গিয়েছে।
পাশ করা তো দূর, পরীক্ষাতেই বসেননি! কয়েক হাজার ‘জাল’ শিক্ষক শিক্ষকতা করছেন প্রাথমিকে!

তবে পর্ষদ অন্য কিছু নথি জমা দিয়েছে, যা দেখে সেই সব কাগজপত্র সিবিআইকে জমা দিতে বলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও এই মামলার শুনানিতে পর্ষদকে নিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথির আসল কপি আনতে বলেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। পর্ষদের আনা সেই সব নথি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত।



