নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যকে অন্ধকারে রেখেই চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি, আসন্ন নির্বাচনের নিয়ে গরম রাজ্য রাজনীতি। বেশ কয়েকমাস ধরে চলছে দলবদলের পালা। পাশাপাশি চলছে পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের রদবদল। সমস্ত কিছু নেপথ্যে একটা কারণ, বাংলার মসনদ দখল। বর্তমান রাজ্যসরকার থেকে বিরোধীরা সকলেই নিজেদের জায়গায় ধরে রাখতে চাইছেন। প্রতিদিনই কিছু না কিছু নতুন চমক সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বাংলা এসে সভা করছেন। ২০১১ সালের নির্বাচন যতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল ২০২১-এর নির্বাচন রাজনৈতিক দল গুলির জন্য ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ ২৫ এ মেটিয়াবুরুজে ওয়েসি, ডাকলেন না সিদ্দিকিকে।
ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চও রাজ্যে এসেছেন। নির্বাচন কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, সুষ্ঠ স্বাভাবিক ভাবে নির্বাচন করানোর জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ শেষবার যখন রাজ্য পরিদর্শনে এসেছিলেন তখনই তারা ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই হবে ভোট। রাজ্য পুলিশকে ভোটের কাজে ব্যাবহার করা হবেনা সেই ভাবে। এবং ভোট দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই রাজ্যে পা রাখবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ১৬ ফেব্রুয়ারীর পর নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু শেষমেশ জানানো হয়েছে চলতি মাসে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হবে না। কিন্তু ভোটের দিন ঘোষণার আগেই গত কালই রাজ্যে চলে এসেছে ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ধাপে ধাপে আরও ১১৩ কোম্পানি বাহিনী চলতি মাসেই বাংলা পা রাখবে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে টহলদারি। সূত্র অনুযায়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আনা হবে বঙ্গে। ২০১১ সালের নির্বাচন যখন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করে সেই সময়ে এতো সংখ্যক বাহিনী আনা হয়নি।
রাজ্যকে অন্ধকারে রেখেই চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি, প্রশ্ন উঠছে এতো বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেন আনা হচ্ছে? এবং ভোট ঘোষণার আগেই কার নির্দেশে টহলদারীর কাজ চলছে রাজ্যে? নবান্ন তরফে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোন কথাই হয়নি। গতকাল রাজ্যে আসার পর থেকেই বীরভূমের নলহাটি ও পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে টহলদারির কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। জানা গেছে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনকে কোনও চিঠি দেয়নি নির্বাচন কমিশন। প্রশ্ন এখানেই, তবে কার নির্দেশে চলছে এই টহলদারী?
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই বাংলা কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযোগ উঠছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখেই চলছে কেন্দ্রের টহলদারি। তবে এই বিষয় নিয়ে এখনই কোন কথা বলতে নারাজ রাজ্য। বিজেপি নেতৃত্বদের মতে, জওয়ানদের টহলদারিতে ভরসা পাবেন রাজ্যের সাধারণ মানুষে। তারা ভয়হীন হয়ে নিজের ভোট নিজেই দিতে পারবেন। বাংলা এবার বদল আসবেই, এমনটাই দাবি গেরুয়া শিবিরের।



