সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়। ১ সেপ্টেম্বর ঘোষিত রায়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—চাকরি বজায় রাখতে ও ভবিষ্যতে পদোন্নতির জন্য আগামী দুই বছরের মধ্যে TET উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশের জেরে প্রায় ৪৫ লক্ষ শিক্ষক এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩ লক্ষ শিক্ষক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে শিক্ষক সমাজের সমস্যা তুলে ধরে লিখিত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তাঁর বক্তব্য, “পরিস্থিতি জটিল হলে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে অর্ডিন্যান্স জারি করে প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি রক্ষা করতে পারেন।”
TET উত্তীর্ণ না হলে চাকরি থাকবে? শিক্ষকদের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন সৌমিত্র খাঁ
২০১০ সালের আগের নিয়োগ—বিতর্কের কেন্দ্রে পুরনো শিক্ষকরা। Supreme Court–এর নির্দেশ অনুযায়ী, TET অতিক্রম না করলে চাকরি যেমন ঝুঁকিতে পড়বে, তেমনই পদোন্নতির রাস্তাও বন্ধ হয়ে যাবে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ২০১০ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।
কারণ—
-
২০১০ সালে শিক্ষার অধিকার আইন চালুর আগ পর্যন্ত TET বাধ্যতামূলক ছিল না।
-
বহু বছর শিক্ষকতা করার পরে আবার পরীক্ষায় বসা অনেকের কাছে বাস্তবে কঠিন।
-
শারীরিক সমস্যার কারণে প্রবীণ শিক্ষকদের পক্ষে TET দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন শিক্ষক সংগঠনগুলি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারি নথি জমা WBPTTA–র
West Bengal Primary Trained Teachers’ Association (WBPTTA) সৌমিত্র খাঁকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে দাবি জানায়—
২০১০ সালের আগের নিয়োগগুলিতে TET বাধ্যতামূলক ছিল না, তাই তাঁদের উপর নতুন শর্ত চাপানো অন্যায্য ও অপ্রয়োজনীয়।

WBPTTA-র পক্ষ থেকে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয়, অতীতে যখন একাধিক PTTI ও B.Ed কলেজকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সার্টিফিকেটের বৈধতা পান। তাঁদের যুক্তি—
“এই ক্ষেত্রেও জাতীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পিন্টু পাড়ুই এই ইস্যুটি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়—কারা ছাড় পাবেন?
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী—
-
যাঁদের অবসরের বয়স পাঁচ বছরের কম, তাঁদের ক্ষেত্রে TET–এর বাধ্যবাধকতা শিথিল।
-
অন্য সকল প্রাথমিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে দুই বছরের মধ্যে TET দেওয়া বাধ্যতামূলক।
-
TET না পাস করলে ভবিষ্যতে পদোন্নতি বন্ধ, এবং নিয়োগও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।


সেই কারণেই শিক্ষক সমাজে উদ্বেগ বাড়ছে। বহু শিক্ষক মনে করছেন—দশকের পর দশক স্কুলে কাজ করার পর এখন হঠাৎ করে চাকরি হারানোর ভয় অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করছে।
বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষক সংগঠনগুলির মতে, যদি সরকার দ্রুত কোনও সমাধান না করে, তাহলে দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবার আর্থিক বিপদে পড়তে পারেন।
সৌমিত্র খাঁর দাবি—প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপই একমাত্র পথ। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষক সমাজের উদ্বেগ বিবেচনা করে কেন্দ্র সরকার কোনও বিশেষ সিদ্ধান্ত নেয় কি না।







