সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষক সমাজে অসীম উদ্বেগ। সুপ্রিম কোর্ট ১ সেপ্টেম্বরের রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—চাকরি বজায় রাখতে বা ভবিষ্যতে পদোন্নতির জন্য আগামী দুই বছরের মধ্যে TET উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এই রায় কার্যত দেশের প্রায় ৪৫ লক্ষ এবং রাজ্যের প্রায় ৩ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষককে তীব্র অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এই সংকট ঘিরে আগামীকাল, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, লোকসভার জিরো আওয়ারে বিষয়টি তুলতে চলেছেন রাজ্যের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের দাবিও তুলবেন তিনি। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি—যদি পরিস্থিতি জটিল হয়, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে অর্ডিন্যান্স জারি করেও শিক্ষক সমাজকে রক্ষা করতে পারেন।
রায়ের ফলে স্পষ্ট—টেট না পাস করলে চাকরি যেমন সংকটে পড়বে, তেমনই পদোন্নতির রাস্তাও বন্ধ হয়ে যাবে। বয়স্ক, দীর্ঘ চাকরিজীবী অনেক শিক্ষকই হতাশ। তাঁদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসার পর আবার টেট পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে যারা ২০১০ সালের আগে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের জন্য এটি একপ্রকার আঘাত। কারণ শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগের নিয়োগে টেট বাধ্যতামূলক ছিল না।
লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষককে বাঁচাবেন প্রধানমন্ত্রী? জিরো আওয়ারে ‘বিশেষ দাবি’ তুলবেন সৌমিত্র

এই একই বিষয় উল্লেখ করে সরকারি নথি জমা দিয়েছে West Bengal Primary Trained Teachers’ Association (WBPTTA)। তাঁদের দাবি, ২০১০ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের উপর নতুন করে এই নিয়ম চাপানো অন্যায্য ও অযৌক্তিক।
পিন্টু পাড়ুইয়ের উদ্যোগে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে
WBPTTA-র রাজ্য সভাপতি ও বিজেপি শিক্ষক সেলের কো–কনভেনার পিন্টু পাড়ুই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর দাবি, অতীতে কলকাতা হাইকোর্ট যখন একাধিক PTTI/B.Ed কলেজকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল, তখন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে হাজার হাজার ছাত্র সার্টিফিকেটের বৈধতা পান এবং চাকরিতে যোগ দিতে পারেন।
এখনও শিক্ষকদের স্বার্থে একই ধরনের জাতীয়স্তরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই তিনি সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, সৌমিত্র খাঁ–সহ একাধিক শীর্ষ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
পিন্টুবাবুর মতে, রায়ের ফলে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশেই প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ চরম আতঙ্কে। দু’বছরের মধ্যে টেট পাস করা বহু শিক্ষকই পারবেন না—এই বাস্তবতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করতে চাইছেন তাঁরা।

দেশজুড়ে শিক্ষকদের কাছে মূল প্রশ্ন—দুই বছরের মধ্যে TET পাশ না করতে পারলে কি চাকরি যাবে?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, হ্যাঁ। শুধুমাত্র যাঁদের অবসরের বয়স ৫ বছরের মধ্যে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল থাকবে। তাই মধ্যবয়সী ও প্রবীণ শিক্ষকদের উদ্বেগ বেড়েছে বহুগুণ।
এই অবস্থায় শিক্ষকদের আশা—সৌমিত্র খাঁ আগামীকাল সংসদে বিষয়টি তুললে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে, এবং প্রধানমন্ত্রী যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের অস্তিত্ব—দুই-ই এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
শিক্ষক সংগঠনগুলি মনে করছে, যদি দ্রুত পদক্ষেপ না হয়, তাহলে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক চাকরি হারানোর বাস্তব ঝুঁকিতে পড়বেন। আগামীকাল লোকসভার আলোচনায় তাই নজর থাকবে গোটা দেশের।







