মমতা সরকারের দ্বিমুখী নীতি কেড়ে নিল মুসলিম চাকরিপ্রার্থীদের খুশির ঈদ!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মমতা সরকারের দ্বিমুখী নীতি কেড়ে নিল মুসলিম চাকরিপ্রার্থীদের খুশির ঈদ! ঈদের দিনেও আর্তনাদ ও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ল কয়েকশো মুসলিম যুবকের ফেসবুক প্রোফাইলে। শনিবার কয়েক শতাধিক মুসলিম চাকরি প্রার্থী চাকরিক্ষেত্রে মমতা সরকারের দ্বিমুখী নীতির প্রতিবাদে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পোস্টার বিদ্রোহ করলেন। বিক্ষোভকারীরা প্রত্যেকেই প্রশিক্ষিত প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ প্রার্থী বলে জানা গিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের পরেই নিয়োগে প্রশিক্ষণরতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ দেশে কমলো সংক্রমণের সংখ্যা, সুস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড।

সেই অনুযায়ী সেই সময়ে একমাত্র ২০১৪-২০১৬ ও ২০১৫-২০১৭ এই দুটি ব্যাচই প্রশিক্ষণরত অবস্থায় ছিলো, কিন্তু সরকারী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পর্ষদ অর্ধপ্রশিক্ষিতদের নিয়োগে সুযোগ না দিয়ে প্রচুর অপ্রশিক্ষিত প্রার্থী নিয়োগ করেছে। পরবর্তীকালে একটা বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে ২০১৪-২০১৬ ব্যাচ ও RCI স্বীকৃত ২০১৫-২০১৭ ডি এড ব্যাচকে নিয়োগ পর্বের আওতায় আনা হলেও পর্ষদ বেআইনিভাবে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ অধীনস্থ ২০১৫-২০১৭ ব্যাচকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করেছে।

তাঁরা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেছেন, বাইরের বোর্ড থেকে যারা ১৫-১৭ সেশনে ট্রেনিং করেছে পর্ষদ তাদেরকে চাকরি দিয়ে দিয়েছে অথচ পর্ষদ তার নিজের বোর্ডে থেকে যারা ওই একই সেশনে ট্রেনিং সম্পন্ন করেছে তাদেরকে সেই সুযোগ দেয় নি। এখানেই পর্ষদের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা করার মারাত্মক অভিযোগ উঠছে। পর্ষদের এই নিষ্ঠুর দ্বিমুখী নীতির প্রতিবাদে ১৫-১৭ সেশনে প্রায় ৩০০ জন প্রশিক্ষিত টেট পাশ বঞ্চিত প্রার্থীরা ক্ষোভে ফেঁটে পড়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকেরই আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নড়বড়ে। তাদের পরিবার আশায় বুক বেঁধে ছিলেন হয়তো মমতা সরকারের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁদের পরিবারের ছেলেমেয়েরা খুব দ্রুতই চাকরি পেয়ে যাবে, পরিবারের অভাব অনটন ঘুঁচবে। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মমতা সরকার মিডিয়ায় লক্ষ্য লক্ষ্য, কোটি কোটি চাকরি দিয়েছে বলে গালভরা গল্প দিলেও এরাজ্যে চাকরি প্রার্থীদের অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থা। অসংখ্য বেকার যুবক-যুবতি চাকরির সমস্ত যোগ্যতামান অর্জন করে বসে থাকলেও এই সরকার তাদের চাকরি দিতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। তাই খুশির এই ইদের দিনেও আর ইদপালন করা হলো না কয়েকশো প্রশিক্ষিত প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীর। চাকরিক্ষেত্রে মমতা সরকারের এই দ্বিমুখী নীতি তছনছ করে দিয়েছে তাঁদের জীবনের ছন্দ। হাসিবুল-মীরকাশিম-সেকেন্দার দের মতো পরিবার, যারা তাদের জমিজমা বিক্রি করেও ডি এল এড ট্রেনিং সম্পূর্ণ করেছিলেন; টেট পাশ করে দুচোখে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে ছিলেন, আজ কার্যত তাঁরা তাঁদের কান্নার আবেগকে চেপে রাখতে পারলেন না

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত