নগরের নটী থেকে দলের আত্মসমালোচনা! তথাগতকে দিল্লি তলব শীর্ষ নেতৃত্বের

নগরের নটী থেকে দলের আত্মসমালোচনা! তথাগতকে দিল্লি তলব শীর্ষ নেতৃত্বের
নগরের নটী থেকে দলের আত্মসমালোচনা! তথাগতকে দিল্লি তলব শীর্ষ নেতৃত্বের

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নগরের নটী থেকে দলের আত্মসমালোচনা! তথাগতকে দিল্লি তলব শীর্ষ নেতৃত্বের ‘নগরের নটী’ বিতর্কের জেরে গতকালই শাহ-মোদীকে মেনশন করে পোস্ট করেছিলেন  তনুশ্রীর, বলেছিলেন দরকারে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। আর তার ঠিক পরেই অই মন্তব্যের জেরে তথাগত রায়কে দিল্লিতে তলব কর্লো বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। নিজেই একথা ট্যুইট করে জানিয়েছেন তথাগত!

আরও পড়ুনঃ নাম না করে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপিকে ‘এইট পাস মিস্ত্রী’ বলে আক্রমন তথাগতর।

গত কয়েকমাস  ধরে গেরুয়া শিবির প্রত্যাশা করেছিলো এই নির্বাচনে বাংলা জয় করবে তারাই, সেই মত প্রচার করেছিলেন। প্রার্থী তালিকায় যুক্ত হয়েছিল একঝাঁক টলি তারকার নাম।  কিন্তু গত ২ তারিখের ফলাফল দেখা গেলো সম্পুর্ণ উল্টো। ক্ষমতায় আসা দূর অস্ত, বাংলায় বিজেপির প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০০ এর কম, অন্যদিকে ডবল সেঞ্চুরি আসন পেয়ে  বাংলা জয় করে তৃতীয় বারের জন্য ফিরে এসেছে ঘাসফুল শিবির।

 

ফলাফলের দিনই গেরুয়া শিবিরের নেতারা বলেছিলেন, আত্মসমীক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু দিন কদিন ঘুরতেই, বিজেপি নেতা তথাগত রায় এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন পায়েল, শ্রাবন্তী পার্নো তনুশ্রী সহ একাধিক অভিনেত্রী। কিন্তু এই নির্বাচনে জেতেন নি কেউই। তার পরেই বিজেপি নেতা তথাগত রায় মন্তব্য করেছিলেন,  “পায়েল, শ্রাবন্তী, তনুশ্রী ইত্যাদি নগরীর নটীরা নির্বাচনের টাকা নিয়ে কেলি করে বেড়িয়েছেন আর মদন মিত্রর সঙ্গে নৌকাবিলাসে গিয়ে সেলফি তুলেছেন (এবং হেরে ভূত হয়েছেন) তাঁদেরকে টিকিট দিয়েছিল কে ? কেনই বা দিয়েছিল? দিলীপ-কৈলাশ-শিবপ্রকাশ-অরবিন্দ প্রভুরা একটু আলোকপাত করবেন কি ?”

তথাগতর এই ট্যুইটের পর একে একে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সকলেই। শ্রাবন্তী পায়েলের হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণ্মূলের জয়ী বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক সহ অনেকেই। ঘটনার পর শ্রাবন্তী বলেছিলেন, তথাগত প্রমান করুন, তাঁরা টাকা নিয়েছেন। পায়েল ট্যুইটে লিখেছেন, “হয়তো আশানুরূপ ফল হয়নি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদিজি, কৈলাশজি, শুভেন্দুদা, অমিত শাহজি এবং দিলীপদার তত্বাবধানে আমরা পরিশ্রম করেছি। আপনার কাছে এটা বোকামি মনে হতে পারে স্যর। কিন্তু এই ধরনের টুইট আপনার ভেরিফায়েড প্রোফাইল থেকে আপনার ক্লাস বুঝিয়ে দিল।”

অন্যদিকে ট্যুইট করেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তীও। তাঁর প্রশ্ন আত্মসম্মান রয়েছে বলেই এক মহিলা হিসেবে এই টুইট করছি। গতকাল একটি অংসবেদনশীল মন্তব্য করা হয়েছে মহিলাদের সম্পর্কে। বিজেপিতে সবসময়ে শক্তিশালী মহিলারা ছিলেন ও আছেন যেমন সর্গীয় সুষমা স্বরাজজি এবং স্মৃতি ইরানিজি। যারা সারা জীবন ধরে সসম্মানে কাজ করে এসেছেন তাঁদের জন্য এই মন্তব্য খুবই কুরুচিকর

সঙ্গে তনুশ্রী আরও লিখেছেন “তথাগত রায়ের ওই ধরনের মন্তব্য আমাদের তিনজনকেই আঘাত করেছে। দলের কর্মী হিসেবে এই বিষয়টি নিয়ে আমি অবশ্যই পার্টির সঙ্গে কথা বলব। কারণ আমি এখনও বিশ্বাস করি যে দলের ভিতরে কিছু নিয়ম রয়েছে। এবনহ সেখানেই কৈলাস বিজয়বর্গীয়, নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহকে মেনশন করেছেন তিনি। জানিয়ে রেখেছেন প্রয়োজনে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনিতারপরেও এবার ভোটের ভরাডুবি নিয়ে দলকে আক্রমন করতে গিয়ে নাম না করে দিলীপবাবুর উদ্দেশ্যে তাঁর মন্তব্য “অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা আর ফিটার মিস্ত্রির শংসাপত্র থাকা নেতৃত্বের কাছ থেকে এর বেশি কী আশা করা যায়।” এদিকে তথাগত বাবুর ‘নগরনটী’ মন্তব্য নিয়ে বিজেপি তথা সমগ্র রাজ্য রাজনীতিতে ধিক্কার শোনা গেলেও দলের ভরাডুবি নিয়ে তাঁর বাকি সমালোচনা যে সিংহভাগ সত্য তা মানছেন বিজেপির অন্দরমহলের অনেকেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তথাগতবাবু যে সত্যি কথা বলছেন সেটা মোদি-শাহ-নাড্ডাদের বুঝিয়ে বলার কেউ নেই। এমনকি এই বিষয়ে আরএসএস নেতৃত্বকেও তথাগতের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে, তাই তাঁরাও এখন তথাগতবাবুর পাশে নেই।

এমন অবস্থায় দিল্লীতে তলব করে তাঁকে কড়া শাস্তি দিলেও কারোর কিছু বলার থাকবে না। তবে দলের অনেকেই মনে করছেন তথাগতবাবু লাগামহীন ভাষায় বললেও রাজ্য নেতৃত্বের এই ভরাডুবির আত্মসমালোচনা  সত্যিই প্রয়োজন। তার মধ্যেই আজ নটী বিতর্কের জেরে তাঁকে তলব করা হয়েছে দিল্লি থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here