বহু বছর হয়ে গেল মৌলবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক বই লিখে দেশছাড়া বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর ওপর হত্যার ফতোয়া জারি করে একাধিক ইসলামিক সংগঠন। আর এখন, সেই তসলিমার দেশ বাংলাদেশ অগ্নিগর্ভ। গণ আন্দোলনের জেরে ১৫ বছরের আওয়ামী লিগ সরকারের পতন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। আর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে লাগাতার মুখ খলছেন তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা লিখেছেন, “ফরাসি বিপ্লবের সময় ১৭৯৩-১৭৯৪ সালে বিপ্লবী রবেস্পীয়ের এর পতনের পর একটা ভয়ংকর সময় শুরু হয়, সময়টিকে ‘টেরোর’ বলা হয় । ধরে ধরে যাকেই বিরোধী দলের বলে সন্দেহ হতো, তাকেই খুন করা হতো। গ্রেট টেরোরের আট নয় মাসে যত খুন করেছিল উন্মত্ত লোকেরা, দুদিনেই বাংলাদেশের কোমলমতি কিশোরেরা তার চেয়ে বেশি খুন করেছে। হাসিনার পদত্যাগের পরের এই সময়টাকে তাহলে গ্রেট গ্রেট টেরোর নামে অভিহিত করা যায়।”
সঙ্গে তিনি আরও লিখেছেন, “তরুণীরা লুট করছে, তরুণেরা খুন করছে। চমৎকার প্রজন্ম আমাদের। আসলে আমার কোনও আশা ছিল না এই জাতি নিয়ে। আগেও ছিল না, এখনও নেই। গত ৩০ বছর ধরে বিনা দোষে যে মানুষকে দেশের মাটিতে পা রাখতে দেওয়া হয় না, সে দেশের সরকার, এবং সে দেশের হিংস্র জনগণ সম্পর্কে ধারণা আমার চেয়ে বেশি আর কার আছে। যেভাবে দলবদ্ধ হয়ে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে হাসিনাকে গদিচ্যুত করতে চেয়েছিল তরুণ প্রজন্ম, সবারই মনে হতে পারে এরা সৎ, এরা সভ্য, এরা সাহিত্য সংস্কৃতি ভালবাসে।”
তসলিমার আক্ষেপ, “কিন্তু পরক্ষণেই এরা দেখিয়ে দেয় এদের খুনী চরিত্র, কী করে মানুষের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট করতে হয়, কী করে হাসতে হাসতে আগুন জ্বালিয়ে দিতে হয় মানুষের বাড়িঘরে দোকান পাটে। কী করে ঠান্ডা মাথায় খুন করতে হয় মানুষকে, শত শত নয়, হাজারো মানুষকে। আহা বাংলাদেশ তুমি বীভৎসতার, নৃশংসতার আরেক নাম। সেনাবাহিনী জনগণকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছে খুন খারাবি করার। কোনও বাধা দেওয়া হচ্ছে না, কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। সেনারা নিজেরাই ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে। সেনারা ভেঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছে কী করে ভাংতে হয়।”
সোনার বাংলা আজ সেনার হাতে! অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। জুলাইয়ের শুরুতে যে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা অগস্টের প্রথম সপ্তাহেই গণ আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। তবে, সেনার শাসন মানবেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গড়া হোক। তবে, সেনার শাসন মানবেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গড়তে চাইছেন তাঁরা।



