হিংসা ও অস্থিরতায় বিধ্বস্ত বাংলাদেশের একাংশের কাছে তিনি এখন আশার প্রতীক। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ঢাকার রাজপথে যে বিপুল জনসমাগম তৈরি হল, সাম্প্রতিক কালে তার নজির বিরল। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের দিনে খালি পায়ে মাটিতে পা রাখেন তারেক রহমান—আর মঞ্চে উঠে দেন ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা।
প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর বিখ্যাত উক্তির অনুকরণে বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।” তাঁর ভাষণে স্পষ্ট—বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তাঁর মাথায় রয়েছে।
বেলা ৩টা ৫১ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন তিনি, আর ৩টা ৫৭ মিনিটে শুরু করেন বক্তৃতা। প্রথম শব্দই ছিল—“প্রিয় বাংলাদেশ।” বক্তব্যে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের উপর আস্থা রেখে বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের হাতেই। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—“সবাই মিলে কাজ করব, গড়ব মোদের বাংলাদেশ।”
ভাষণে উঠে আসে তাঁর মা, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র প্রসঙ্গও। তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে প্রার্থনার আবেদন জানান তারেক রহমান।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গণআন্দোলনকে তুলনার মঞ্চে আনেন। তাঁর কথায়, “৭১-এ মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। ২০২৪-এ সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। আজ বাংলাদেশের মানুষ আবার কথা বলার অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিতে চায়।”


বক্তৃতায় স্মরণ করা হয় সদ্য নিহত ছাত্রনেতা ওসমান হাদি-কেও। তারেক রহমান বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন দেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ১৯৭১ ও ২০২৪—দুই সময়ের শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত ও ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই হবে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশক মুহূর্ত হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।










