বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের বড়সড় মোড় আসতে চলেছে। প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার ঢাকায় তাঁর প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের লক্ষ্য, লক্ষ লক্ষ সমর্থককে একত্রিত করে নেতাকে ঐতিহাসিক অভ্যর্থনা জানানো।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখছে বিএনপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্বাচনেই তিনি সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে সামনে আসতে পারেন।
৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র পুত্র। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর তাঁর দেশে ফেরা দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বিমানবন্দরে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। সেখান থেকে তিনি একটি নির্দিষ্ট সড়কপথে অভ্যর্থনা মঞ্চে পৌঁছবেন, যেখানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হলে তারেক রহমান সরাসরি যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, অসুস্থ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। পরে বিমানবন্দর সড়ক ও কাকলি মোড় হয়ে তিনি ঢাকার গুলশান-২ এলাকার বাসভবনে পৌঁছবেন। এটুকুই তাঁর প্রথম দিনের কর্মসূচি বলে জানিয়েছে দল।
দ্বিতীয় ধাপে, ২৭ ডিসেম্বর তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন দফতরে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত না হলেও ওই দিনই ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে দাবি বিএনপির।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়—এটি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনীতির শক্তি ও দিশা নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।



