লোকসভা নির্বাচনের আগে ডামাডোল তৃণমূল শিবিরে। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তাপস রায়। সোমবার বিধানসভায় গিয়ে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দেন। পয়লা মার্চ তিনি দলীয় পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। রবিবারই জানা যায়, দল ছাড়তে চলেছেন তাপস। সোম সকালে তাঁর বাড়িতে চলে যান দলের দুই সতীর্থ কুণাল ঘোষ ও ব্রাত্য বসু। কিন্তু তাপসের মানভঞ্জনে ব্যর্থ হলেন তাঁরা। এবার কি বিজেপিতে যোগ দেবেন তাপস? রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর জল্পনা।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয়, উত্তর-পূর্বেও ‘একলা চলো’ মমতার


বিধানসভায় বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবার পর কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তাপস রায়। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূলে আমি থাকতে পারছি না। যেদিকেই যাচ্ছি শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি। এরই মধ্যে সন্দেশখালির ঘটনা। দু’বার মিছিলের সামনে পড়েছিলাম। আমি অনেকদিন ধরেই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি। আর ভালো লাগছে না। দল ছেড়ে দিয়েছি।”

একই সঙ্গে কোথাও গিয়ে একটা দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তাপস। বললেন, “আমার বাড়িতে ইডি পাঠিয়েছিল দলেরই কিছু লোক। কিন্তু ৫২ দিন কেটে গেল সুপ্রিমো আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। দলে শেখ শাহজাহানের গুরুত্ব আছে কিন্তু, আমার নেই।” তবে, আগামীতে তাপস বিজেপিতে যাবেন কিনা তা নিয়ে কোনও উত্তর দেননি। শুধু বললেন, “আমি ফ্রি বার্ড। যা করব দেখা যাবে।”



তাপসের তৃণমূল ত্যাগ! মানভঞ্জনে ব্যর্থ ব্রাত্য-কুণাল, এবার গন্তব্য বিজেপি?
সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কুণাল ঘোষের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাপস রায়। তাঁর বাড়িতে ইডি পাঠানোর নেপথ্যে সুদীপের মদত ছিল বলে অভিযোগও জানান। সুদীপের বিজেপি যোগ নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। শনিবারই তাপস বলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার প্রার্থী হলে আমি তাঁর সমর্থনে প্রচারে বেরোব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুরোধ করলেও না। এলাকার খোঁজ রাখে না সুদীপ। ক’বার আসে এখানে?” আর এবার তো নিজেই তৃণমূল ত্যাগ করলেন তাপস! উত্তর কলকাতায় সুদীপের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন কি তাপস? জল্পনা তুঙ্গে।








