‘মিমিকে ছাড়ব না’—গ্রেপ্তারির পর হাসপাতালে শুয়েও হুমকি তনয় শাস্ত্রীর, গুরুত্ব দিতে নারাজ মিমি

গ্রেপ্তারির পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তনয় শাস্ত্রী। হাসপাতালের বেডে শুয়েই মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে হুমকি। গুরুত্ব দিতে নারাজ অভিনেত্রী-প্রাক্তন সাংসদ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গ্রেপ্তারি, অসুস্থতা কিংবা হাসপাতালের বেড—কোনও কিছুই যেন তাঁর মেজাজ ঠান্ডা করতে পারেনি। বনগাঁ কাণ্ডে অভিযুক্ত জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাসপাতালে শুয়েই ফের হুমকির সুর চড়ালেন অভিনেত্রী-রাজনীতিক মিমি চক্রবর্তী-এর বিরুদ্ধে। তদন্তের মাঝেই তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালেও, গোটা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মিমি নিজে।

মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া, হেনস্তা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারির পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তনয় শাস্ত্রী। তাঁকে ভর্তি করা হয় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। সেখানেই সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “মিমিকে আমি ছাড়ব না।” যদিও এই হুমকিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “একটা লোককে যতটা ফুটেজ দেওয়া উচিত নয়, তার থেকেও বেশি আমরা দিয়ে ফেলেছি।”

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। রাত সাড়ে ১০টার সময় তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও, ক্লাব সদস্যদের দাবি—অভিনেত্রী সেখানে পৌঁছন প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে। মঞ্চে উঠতে উঠতে রাত পৌনে ১২টা বেজে যায়। প্রশাসনের অনুমতি অনুযায়ী অনুষ্ঠান চলার সময়সীমা ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। সেই কারণেই তাঁকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।

তবে মিমির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বনগাঁ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, অনুষ্ঠানের মাঝেই ক্লাবের এক কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী মঞ্চে উঠে পড়েন। গান চলাকালীনই অনুষ্ঠান বন্ধ করে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি চরমভাবে অপমানিত বোধ করেন।

যদিও ক্লাবের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ক্লাব কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাসের বক্তব্য, “মিমি চক্রবর্তীকে কোনও অসম্মান করা হয়নি। প্রশাসনের নির্দেশ ও মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখেই ঠিক ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। তাঁকে সসম্মানেই বিদায় দেওয়া হয়েছে।”

মিমির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তিন দিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে আটক করে বনগাঁ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। তবে এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, তনয় শাস্ত্রীর বাড়ির সামনে স্থানীয় মহিলারা জড়ো হয়ে পুলিশকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিরও ঘটনা ঘটে।

বনগাঁ পুলিশ সূত্রে খবর, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তনয় শাস্ত্রী-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় নতুন করে হুমকি, পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে বনগাঁ কাণ্ড ঘিরে উত্তাপ এখনও কাটেনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন